চাপড়ায় আবুল কালাম আজাদ মিশনের বই উন্মোচন ও শিক্ষক দিবস-পুনর্মিলন উৎসব
নতুন পয়গাম, নদিয়া:
নদিয়ার চাপড়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মওলানা আবুল কালাম আজাদ মিশনের প্রাঙ্গণ বৃহস্পতিবার সাক্ষী থাকল এক মহিমান্বিত ও আবেগঘন আয়োজনের। সাড়ম্বরে পালিত হলো শিক্ষক দিবস ও প্রাক্তনী পুনর্মিলন উৎসব,যেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং অসংখ্য অতিথি। দিনভর উৎসবের আবহে মিশন প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল আনন্দ-উল্লাস ও স্মৃতিচারণায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মিশনের সেক্রেটারি তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইসমাইল শেখ মিশনের সভাপতি আলহাজ্ব জিয়ার রহমানের সহযোগিতায় উন্মোচন করেন তাঁর গ্রন্থ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মিশন প্রতিষ্ঠানের প্রারম্ভিক ইতিকথা”। বইটির মাধ্যমে মিশনের প্রাথমিক যাত্রাপথ ও সংগ্রামের কাহিনি নতুন প্রজন্মের সামনে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য প্রাক্তনী, যাঁরা আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কৃতিত্বের সঙ্গে কর্মরত। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডক্টর রেজাউল মণ্ডল, ডাক্তার আজিবুর শেখ, ডাক্তার সাদিকুল ইসলাম, ডাক্তার সাহিদ আনোয়ার ও পুলিশ অফিসার মাসুম শেখ।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন তরুণ সাহিত্যিক আবীর লাল। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা,সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তি,সমবেত শ্রোতৃবৃন্দকে মুগ্ধ করে তোলে। প্রাক্তনীদের হাতে স্মারক ও বই তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যা তাঁদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী এবং মিশনের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা।
প্রাক্তন ছাত্ররা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মিশনের হোস্টেল সুপার হুমায়ূন কবির, প্রধান শিক্ষক নাসিম আহমেদ এবং শিক্ষক আব্দুল হামিদ শেখের প্রতি, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্নেহে তাঁরা শিক্ষাজীবনে দীক্ষিত হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও অনুপ্রেরণার স্মৃতি প্রাক্তনীদের কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার সুর তোলে।
সেক্রেটারি ইসমাইল শেখ তাঁর ভাষণে আবেগভরে স্মরণ করান, কিভাবে প্রায় পঁচিশ বছর আগে মিশন যাত্রা শুরু করে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন,আগামীতেও একই উদ্যম ও নিষ্ঠায় এই মিশন শিক্ষার শিখা জ্বালিয়ে রাখবে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞানের পথে আলোকিত করবে।
পুরো দিনভর চলা এই উৎসব যেন প্রাক্তন ও বর্তমানের এক অপূর্ব সেতুবন্ধন। শিক্ষার মহিমা, বন্ধুত্বের স্মৃতি ও মিলনের আনন্দ একাকার হয়ে উঠেছিল। এক কথায়, এদিনের অনুষ্ঠান মিশনের ইতিহাসে লিখে রাখল এক স্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।








