শামসুদ্দোহা কাসেমীর হারানো দিনের কাহিনি
বিশেষ প্রতিবেদন
নতুন পয়গাম: মুহাম্মাদ শামসুদ্দোহা কাসেমীর জন্ম উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বাংলানী গ্রামে মাতুলালয়ে, আনুমানিক ১৯৭৯ সালে। পৈতৃক নিবাস বাদুড়িয়ার ছোট্ট গ্রাম আটুরিয়া দক্ষিণপাড়ায়। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় আটুরিয়া দক্ষিণপাড়া এফ.পি স্কুলে। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই অধ্যয়ন করি। সেই সময়েই প্রায় তিন কিমি. দূরের সায়েস্তানগর মক্তবে কুরআন শিক্ষা শুরু হয় ক্কারী আব্দুল মাজেদ সাহেবের কাছে।
১৯৮৯ সালে পুনরায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হই কাটিয়া শাহ রজব আলি সিনিয়র মাদ্রাসায়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় মাওলানা নুরুল হুদা সাহেব আমাকে আরবি ভাষায় দক্ষ করে তোলেন এবং বোর্ডে প্রথম হওয়ার স্বপ্ন দেখান। ১৯৯৬ সালে এই মাদ্রাসা থেকেই মাধ্যমিক সমতুল্য আলিম পরীক্ষা দিই। ফাজিল, কামিল ও এম.এম করার জন্য ভর্তি হই হুগলির ফুরফুরা ফাতেহিয়া সিনিয়র টাইটেল মাদ্রাসায়। ১৯৯৮ সালে ফাজিলে বোর্ডে প্রথম হই, ২০০২ সালে এম.এম পরীক্ষাতেও প্রথম স্থান অর্জন করি। এই সময়েই মাওলানা বদরুদ্দীন কাসেমী আমাকে দারুল উলুম দেওবন্দে যাওয়ার প্রেরণা দেন।
এম.এম রেজাল্টের আগেই পৌঁছে যাই দেওবন্দে। ভর্তির সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এক বছর সেমায়াত করি। ২০০৩ সালে দাওরায়ে হাদীস ক্লাসে ভর্তি হই এবং পরের বছর তাকমীলে তাফসীর কোর্স সম্পন্ন করে ফিরি। এখানে আমার প্রিয় উস্তাদ ছিলেন মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী (রহ.)। তাঁকে নিয়ে আমার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় ‘নেদায়ে হেমায়েত’-এ। পরবর্তীতে মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে এম.এ (মডার্ন আরবি) ও বসিরহাট মহাবোধি কলেজ থেকে বি.এড করি।
প্রথম শিক্ষকতা করি কাটিয়া শেখপাড়াস্থিত আনওয়ারুল উলুম কাসেমী মিশনে। এক বছর পড়ানোর পাশাপাশি প্রস্তুতি নিতে থাকি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য। ২০০৫ সালে এসএসসি-তে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালে আবার নিজের পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাটিয়া শাহ রজব আলি সিনিয়র মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই।
ছোটবেলা থেকেই লেখালিখির প্রতি ঝোঁক ছিল। প্রথম মুদ্রিত লেখা ‘ছাত্রদূত’ পত্রিকায়, শিরোনাম ছিল ‘মাদ্রাসার ছাত্রদের আন্দোলন কেন?’। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বই ‘স্মৃতির দর্পণে বাংলাদেশ’। অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্বপ্নের ফুরফুরায় একদিন’, ‘কালো গেলাফ থেকে সবুজ গম্বুজ’। ইতিমধ্যে নানা পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। যেমন- দৈনিক পুবের কলম, সাপ্তাহিক মীযান, নবচেতনা, হৃদয়ের আলো, নেদায়ে হেমায়েত, নেদায়ে ফুরক্ব-ন ইত্যাদি।
ইমামতি করছি প্রায় ২৭ বছর ধরে। সাত বছর কাটিয়া টাউন জামে মসজিদে খতিব ছিলাম। ২০১০ সাল থেকে এখনও সায়েস্তানগর টাউন জামে মসজিদের দায়িত্বে আছি। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর ধরে ঈদের নামায পড়াই নিজ গ্রাম আটুরিয়া দক্ষিণপাড়া বিকে এপি ঈদগাহ ময়দানে।
আমার বসতবাড়ি ‘ক্ষণিকালয়’-এ প্রতি মাসের প্রথম শনিবার মাসিক ইসলাহী মজলিস হয়। পরিচালনা করেন মুফতি ফখরুদ্দীন আহমাদ কাসেমী সাহেব। বিভিন্ন সময় মেহমান হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন মাওলানা মনজুর আলম কাসেমী, মুফতি মনসুর সাহেব, মাওলানা আইয়ুব ভটকালী, মাওলানা বদরুদ্দীন কাসেমী প্রমুখ। সায়েস্তানগর টাউন জামে মসজিদে নিয়মিত তাফসীরের মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। মাদানী মেহমানখানা, পুষ্পকানন পাঠাগার, কাটিয়াহাট বাজার, সফিরাবাদে হাফেজ আবু রায়হান সাহেবের বাড়ি, সফিরাবাদ দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করি পুষ্পকানন পাঠাগার, যেখানে দেশ-বিদেশের শত শত মূল্যবান বই সংরক্ষিত রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় প্রথম দ্বীনিয়াত মোনাযযাম মক্তব প্রতিষ্ঠা করি আটুরিয়া দক্ষিণপাড়ায়। এটি বর্তমানে ৩০টি দেশে ২০টিরও বেশি ভাষায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে সপরিবারে উমরাহ সম্পন্ন করি। সেই সফরের বর্ণনা আছে আমার অপ্রকাশিত বই ‘কালো গেলাফ থেকে সবুজ গম্বুজ’-এ। মহান আল্লাহ তাআলা যেন জীবনের বাকি দিনগুলো সুস্থতার সঙ্গে দ্বীনের খিদমতে অতিবাহিত করার তাওফীক দেন। আমীন।








