আইএইএ-র সঙ্গে ইরানের চুক্তি
নতুন পয়গাম, তেহরান, ১০ সেপ্টেম্বর: রাষ্ট্রসংঘের অধীনস্ত পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ-র সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করল ইরান। এই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরীক্ষণ সংস্থা আইএইএ-র কর্মকর্তাদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ফের পরিদর্শন শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল না করার শর্ত দিয়েছে তেহরান।
বুধবার ইরান ও আইএইএ-র কর্মকর্তারা জানান, তারা পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় গত জুনে আমেরিকা ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোও রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তেহরান প্রশাসন পশ্চিমাদের সতর্ক করে দিয়েছে, স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করা হলে এই চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার মিশরের রাজধানী কায়রোয় আইএইএ-র প্রধান অধিকর্তা রাফায়েল গ্রোসি-র সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং ইরানের পরমাণু বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির কয়েকজন সদস্য। এই বৈঠক ছিল ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আইএইএ-র সঙ্গে ইরানের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
দু-দিন ধরে চলা বৈঠকের পর বুধবার নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন তারা। এরপর যৌথ সাংবদিক সম্মেলনে আরাকচি বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান এবং দেশটির জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার শর্তে আইএইএ-র সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়াতে রাজি হয়েছে তেহরান। গ্রোসি বলেন, ‘এই সমঝোতা সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ। এটি এমন একটি দরজা, যা আমরা এখন খুলে দিচ্ছি।’
ইরান নাকি গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়াচ্ছে – এই অভিযোগ তুলে জুন মাসে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। ইরানের পাল্টা জবাবি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি দেশটির একাধিক শহরে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী।
এক পর্যায়ে সেই হামলায় যোগ দেয় আমেরিকাও। এরপর ইসরাইলে পাল্টা হামলা করে ইরানও। তারপর কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ইরান হামলা করলে ১২ দিন পর উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার জন্য আইএইএ-র একপেশে নীতিকে দুষে সহযোগিতা স্থগিত করে তেহরান। ফলে আইএইএ-র কর্মকর্তারা তেহরান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে গত মাসে আবার আইএইএর একটি দলকে অল্প সময়ের জন্য বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেয় ইরান সরকার। তবে ফোরদো ও নাতাঞ্জ-সহ অন্যান্য পরমাণউ স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে হুঁশিয়ারির পর আগস্টে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করে। ইরান এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলে, এর ফলে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে বাদ দেয়া হতে পারে।
পেটে
ইসরাইলের পরমাণু কর্মসূচিতে নীরব কেন পশ্চিমারা: ইরান
নতুন পয়গাম, তেহরান, ১০ সেপ্টেম্বর: ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণে পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করল ইরান। অভিযোগ, নীরবে পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ করে চলেছে ইসরাইল। স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে দেশটির নতুন পারমাণবিক কর্মসূচি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, পশ্চিমারা শুধু ইরানকেই দেখতে পায়। অথচ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে ইরান সব চুক্তিতে সই করেছে। ইসরাইল এমন কোনো চুক্তিতে সই করেনি। তবুও ইসরাইলের পারমাণবিক বিস্তার প্রকল্প নিয়ে পশ্চিমাদের মুখে কুলুপ কেন? তেরহান প্রশাসন এও বলেছে, পশ্চিমারা অহেতুক ইরান-আতঙ্কে ভোগে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরো বলেন, পরমাণু ইস্যুতে দ্বিচারিতা পশ্চিমাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আরাকচি এক পোস্টে অভিযোগ করেন, পশ্চিমাদের কাছে আসল উদ্বেগ কোনো দেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নয়; বরং কে বৈজ্ঞানিকভাবে এগোচ্ছে সেটি। বিশ্বব্যাপী গণহত্যাযজ্ঞে তাদের দোসর ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের সম্প্রসারণ নিয়ে পশ্চিমারা তাই নীরব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে ইসরাইলের দিমোনা শহরের কাছে শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারে বিশাল নতুন পরিকাঠামো নির্মাণকাজ ধরা পড়েছে। সাতজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন যে, কাজটি ইসরাইলের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরাইল। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। টেলিকথনে আরাকচি বলেছেন, ইরান কূটনীতির পথে অবিচল রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমস্যা সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। যুদ্ধ নয়, ইরান শান্তির পক্ষে।








