শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চায় এক নিবেদিত প্রাণ- মুহাঃ মইদুল ইসলাম
নতুন পয়গাম, বিশেষ প্রতিবেদন:
মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার মোল্লারচক গ্রামে জন্ম মুহাঃ মইদুল ইসলাম-এর। পিতা মরহুম জেকের আলী মোল্লা ও মাতা মারহুমা মালেকা খাতুন। শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যপ্রেমে বেড়ে উঠেছেন মইদুল ইসলাম। কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি সাহিত্য ও থিওলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতার মহান পেশায় আত্মনিয়োগ করেন এবং অদ্যাবধি শিক্ষা-সেবায় যুক্ত আছেন।
ছাত্রাবস্থা থেকেই তাঁর লেখালিখিতে হাতেখড়ি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলা ছোটগল্পের জগতে এক স্বতন্ত্র স্বর হয়ে উঠেছেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তিনি এমন এক আঙ্গিকে গল্প রচনা করেন, যা সমাজ-সংস্কৃতির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে পাঠককে ভাবায় এবং মূল্যবোধ জাগ্রত করে। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘আয়না: নির্বাচিত গল্পগুচ্ছ’ এবং দ্বিতীয় প্রকাশনা ‘বাঁশ’ পাঠকসমাজে ইতিমধ্যেই সমাদৃত হয়েছে। ‘সচল বিবেক’ ও ‘অব্যক্ত যন্ত্রণা’ তাঁর গল্পচর্চার সমাজসচেতন দৃষ্টিভঙ্গি উজ্জ্বলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আর আছে ‘লাল পায়জামা’ নামে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক উপন্যাস, যা এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুধু মৌলিক লেখালিখিই নয়, অনুবাদক হিসেবেও তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। উর্দু থেকে বাংলায় তাঁর অনুবাদ সহজ, সাবলীল ও পাঠক-বান্ধব। অনূদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল — খুররম জাহ মুরাদের ‘ইসলামের পুনরুজ্জীবন ও শিক্ষক সমাজ’ এবং ‘লামহাত’ (বাংলাদেশের প্রচ্ছদ প্রকাশনী থেকে ‘আমার স্মৃতিকথা’ নামে প্রকাশিতব্য); ড. ইউসুফ আল কারযাভীর ‘নববী দর্পণে শিক্ষা দর্শন’; সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদীর ‘সমাজ বিপ্লবের ইশতেহার’; ড. খুরশিদ আহমাদের ‘কুরআন, ইকামতে দ্বীন ও মাওলানা মওদূদী রহ.’; আব্দুল গাফফার আজীজ ও সেলিম মানসুর খালিদ সম্পাদিত ‘হাসান আল বান্না শহীদ: একটি পর্যালোচনা’; মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী রহ.-এর ‘নামাযের মর্মকথা’; মাওলানা সাদরুদ্দিন ইসলাহী রহ.-এর ‘সত্যের পথে প্রাণঘাতী বিপদ’; নাঈম সিদ্দিকী রহ.-এর ‘ধর্ম ও রাজনীতির লড়াই’ (প্রকাশিতব্য); মাওলানা জালালউদ্দিন উমরী রহ.-এর ‘সাবিলে রব’ এবং ‘ইসলামের দাওয়াত’ (প্রকাশিতব্য)।
এছাড়াও তাঁর অনুবাদে আরও বহু গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ইসলামী চিন্তা ও ফিকহে গভীরতা অর্জনের জন্য তিনি ঢাকা মারকাযে দারুল উলুম থেকে ইফতা কোর্স (মুফতি) সম্পন্ন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় রচনা করেছেন ‘থাকতে সহীহ শুদ্ধ নামায, বিভ্রান্তকে করল সমাজ’ এবং ‘হারিয়ে যাওয়া খিলাফতের কান্না: আত্মপরিচয়ের খোঁজে উম্মাহ’ প্রভৃতি গ্রন্থ। এসব গ্রন্থে তিনি উম্মাহর মধ্যে বিভাজন, বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়ে সুসংহত চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, এই গ্রন্থগুলিও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী, নীরব ও অধ্যয়নমুখী হলেও তাঁর লেখনীতে থাকে তীক্ষ্ণ সমালোচনা, স্পষ্ট যুক্তি ও প্রখর স্বর। সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ তাঁকে একজন চিন্তাশীল লেখক হিসেবে আলাদা করে তুলেছে। নিয়মিতভাবে তিনি লিখে চলেছেন মীযান, নতুন গতি, পুবের কলম, নাবিক, যুব প্রত্যাশা, নতুন পয়গাম-সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সর্বোপরি, মুহাঃ মইদুল ইসলাম শিক্ষকতা, সাহিত্য ও অনুবাদচর্চার মাধ্যমে সমাজে এক আলোকবর্তিকা হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য জ্ঞান, নীতি ও চেতনার এমন এক ধারা গড়ে তোলা, যা আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত মানুষ করে তুলবে এবং মুসলিম উম্মাহকে আত্মপরিচয়ের সঠিক পথে পরিচালিত করবে।








