হাতির তাণ্ডবে বিঘের পর বিঘে ফসল নষ্ট
হাতির তাণ্ডবে বিঘের পর বিঘে ফসল নষ্ট
তৌসিফ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া, ২ সেপ্টেম্বর:
মাঝে হাতে গোনা কয়েকমাস হাতি মুক্ত ছিল বাঁকুড়া। কিন্তু কয়েকমাস যেতে না যেতেই ফের হাতির দল ঢুকে পড়ল বাঁকুড়া জেলায়। গতকাল রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানা পেরিয়ে ২৫ টি হাতির একটি দল ঢুকে পড়ে বিষ্ণুপুরের বাঁকাদহ রেঞ্জের ফুলবনি মৌজায়। রাতভর হাতির দলের তান্ডবে ওই মৌজায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিঘের পর বিঘে জমির ধান। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের পারদ চড়ছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের।
মাস কয়েক আগেই প্রায় আশিটি হাতির একটি দল দফায় দফায় বাঁকুড়া ছেড়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরেছিল। সেবার হাতির তান্ডবে শীতকালীন ফসলের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতির এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা। তার মধ্যেই গতকাল রাতে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ২৫ টি হাতির একটি দল ঢুকে পড়লো বাঁকুড়া জেলায়। এমনিতে সামনেই পুজো। তাছাড়া এখন জেলার সর্বত্রই জমিতে রয়েছে আমন ধান। এই পরিস্থিতিতে জেলায় হাতির দল ঢুকে পড়ায় রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে গত রাতে হাতির দল ঢুকেই কার্যত তছনছ করে দিয়েছে সীমানাবর্তী ফুলবনি মৌজায় থাকা বিঘের পর বিঘে আমন ধানের জমি। রাতভর জেগে জমির ফসল পাহারা দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি এলাকার কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দাবি হাতির দল ঢুকে পড়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাতির দল দেখতে এবং তার ছবি ভিডিও করতে রাতেই কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসেন ফুলবনিতে। আর তাতেই বিভ্রান্ত হয়ে হাতির দল তান্ডব চালাতে শুরু করে ফসলের জমিতে। বন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে থাকলেও হাতির মুখ থেকে কষ্টে ফলানো ফসল রক্ষার জন্য তাঁরা কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। আর এতেই বন দফতরের বিরুদ্ধে উত্তরোত্তর ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার মানুষের।
তবে যে সমস্ত কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে সমস্ত কৃষকরায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবে যদি তারা ফরম ফিলাপ করে। এবং বিগত দিনে হাতির তাণ্ডবে যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের মধ্যে যে সমস্ত কৃষকরা ফর্ম ফিলাপ করে বনদপ্তরে জমা দিয়েছে প্রত্যেকেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ক্ষতিপূরণ পায়নি এরকম কেউ নেই দাবি বাকাদহ রেঞ্জ অফিসার তপব্রত রায়ের। এছাড়াও তিনি বলেন গতরাতে 5 থেকে 10000 মানুষ ভিড় জমিয়ে ছিল এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই হাতি নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে জঙ্গলে ২৫ টি হাতি রয়েছে জঙ্গল তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সাবধান সচেতন ভাবে থাকা নির্দেশ দিচ্ছে বনদপ্তর।







