রাষ্ট্রপতির প্রাক-স্বাধীনতা শুভেচ্ছা
কেন্দ্র সরকারের কাজের প্রশংসায় দ্রৌপদী মুর্মু
এআই-এর জয়যাত্রাকে স্বাগত, অপারেশন সিন্দুর ছিল সন্ত্রাস নির্মূলে মানবতার লড়াই
নতুন পয়গাম, দিল্লি: প্রাক-স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চিরাচরিত প্রথা মেনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রাচীন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। পাশাপাশি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়যাত্রাকে স্বাগত জানালেন। পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতে সেনাবাহিনীর তরফে সমুচিত জবাব ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর প্রশংসা করে বললেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের সামরিক বাহিনী তথা সশস্ত্র সেনাবল যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখোমুখি হতে যে নির্ভীকতার পরিচয় দেখিয়েছে, তা অপারেশন সিন্দুর প্রমাণ করে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপসনহীন মানবতার লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে অপারেশন সিন্দুর ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বিতর্কিত এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইস্যুতে বিরোধী শিবির যখন সংসদ, গণতন্ত্র, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন রাষ্ট্রপতি দেশের বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সংবিধানের উপর আস্থা জ্ঞাপন করে কার্যত কেন্দ্র সরকারের কাজকর্মের পক্ষাবলম্বন করলেন।
মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধের আবহে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেশের প্রগতিশীল অর্থনীতির বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল্যায়ন করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি দেশের সুপ্রাচীন গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন প্রজাতন্ত্রের আবাদভূমি হল ভারত। ভারতবর্ষ হল গণতন্ত্রের জননী। স্বাধীনতার পর আমরা মুক্ত গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছিলাম, যেখানে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ভোটাধিকার দেওয়া হয়। অনেক দেশে লিঙ্গ, ধর্ম এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে ভোটাধিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকত। আমরা কিন্তু সেটা করিনি। আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সর্বত্র নাগরিকদের অংশগ্রহণ মান্যতা পায়।
তাঁর কথায়, সংবিধানের ভিত্তিপ্রস্তরের ওপরে আমাদের গণতন্ত্রের শক্তিশালী বুনিয়াদ নির্মিত হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের উপরে পুরোপুরি আস্থাভাজন ও নির্ভরশীল এমন সব সাংবিধানিক সংস্থা তৈরি করেছি, যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরো মজবুত হয়েছে।
১৪ অগস্ট যেহেতু দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান জন্ম হয়েছিল, তাই রাষ্ট্রপতির ভাষণে এদিন দেশভাগের কথাও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এই দিনটিকে আমরা বিভাজন, বিভীষিকার স্মৃতি হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। দেশভাগের পরিণামে ভয়াবহ হিংসা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু হয়েছিল। সেকথা বিষাদচিত্তে স্মরণ করে দেশভাগকে তিনি ঐতিহাসিক ভুল বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইতিহাসের ভুল-ত্রুটির শিকার হওয়া মানুষদের আজ আমরা বিনম্রচিত্তে শ্রদ্ধা জানাই।
দেশের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্র সরকারের প্রশংসা করেন। যদিও অতি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতির দেশ’ বলে নয়া বিতর্ক তৈরি করেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সমর্থন করে মোদি সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে দাবি করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ৬.৫ শতাংশ আর্থিক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুত হারে আগে বাড়ছে। ভারত আত্মনির্ভরশীল দেশ হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কথায়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে দ্রুত ভারতীয় সমাজের সব স্তরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, তা এখন আর নতুন কথা নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে সুদূরপ্রসারী অগ্রগতির অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তার ফলে দ্রুত নাটকীয় পটপরিবর্তন হতে চলেছে। এআই-নির্ভর ভারত তথা বিশ্বের ভবিষ্যৎ হবে অতি উজ্জ্বল। কেন্দ্র সরকার উচ্চশিক্ষায, গবেষণা, প্রযুক্তি খাতে এআই-কে ইতিবাচক কাজে প্রয়োগের লক্ষ্যে সময়োচিত পদক্ষেপ করছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর দাবি, এআই-এর কারণে যে প্রযুক্তিগত সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তা পিছিয়েপড়া প্রান্তিক সমাজের মানুষেরও উপকারে আসা উচিত।








