ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ২০ জুন: বর্তমান সময়ে ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতায় এক রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আয়োজন করল স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন (এসআইও) পশ্চিমবঙ্গ। “ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি এবং ড্রাগ অ্যাডিকশন” শীর্ষক এই আলোচনা সভায় শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সমাজকর্মী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে মত বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে এসআইও সারা রাজ্যজুড়ে “তোমরা সৎকর্ম এবং সংযমের পথে পরস্পরের সহযোগিতা কর” — শীর্ষক প্রচার অভিযান পরিচালনা করছে। ছাত্র-যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, আসক্তি এবং সামাজিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই রাজ্যব্যাপী এই মহৎ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কলকাতার এই গোলটেবিল বৈঠক ছিল সেই প্রচার অভিযানেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
বৈঠকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, চিকিৎসক, মনোবিদ, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন বিনোদনের অতিরিক্ত ব্যবহার আজকের ছাত্র-যুব সমাজকে এক ধরনের ডিজিটাল নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে তাদের পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা কিশোর, তরুণ ও যুবকদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তির বিস্তার সমাজের জন্য এক বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব আসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়; তার পরিবার এবং সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই বিষয়টিকে কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে নয়; একটি সামাজিক ও মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন যে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু ও কিশোরদের সঙ্গে নিয়মিত ইতিবাচক যোগাযোগ, কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, নৈতিকতার চর্চা এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইও-র সর্বভারতীয় সভাপতি আবদুল হাফিজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে শুধু তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখালেই হবে না; বরং প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইও-র রাজ্য সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, এসআইও দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সমাজের নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশে কাজ করে আসছে। ডিজিটাল আসক্তি, পর্নোগ্রাফি এবং মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেতনতা সৃষ্টি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এসআইও বিভিন্ন রকমের সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের শেষে উপস্থিত অতিথিরা সহমত পোষণ করেন যে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তারা একটি সুস্থ, সচেতন, মূল্যবোধসম্পন্ন ও আসক্তিমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। গোলটেবিল বৈঠকে এসআইও-র রাজ্য নেতৃবৃন্দ-সহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র-যুব সমাজকে ঘিরে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংকট নিয়ে একটি ফলপ্রসূ ও সময়োপযোগী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন।








