১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে
নতুন পয়গাম: ডোমকলের বহু প্রতীক্ষিত বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। মাননীয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে– ২০২২ সালে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন এখনও পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের কাজ বাস্তবে শুরু বা সম্পন্ন হল না। আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে– ১) টেন্ডারের পর প্রকল্প বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ২) কাজ বিলম্বিত হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ, ৩) বর্তমানে প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা, ৪) সম্ভাব্য সমাপ্তির সময়সীমা।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও কাজের অগ্রগতি না থাকা “গুরুতর বিষয়”।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডোমকল এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু প্রকল্পের সূচনা হয় বামফ্রন্ট আমলে। ২০১১ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি থমকে যায়। ২০১৯ সালে ডোমকলের বিধায়ক হন জাফিকুল ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই ব্রিজ নির্মাণ শেষ করবেন এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহের কথাও বলেন। কিন্তু তাঁর অকাল প্রয়াণের পর প্রকল্পটি আবার অনিশ্চয়তায় পড়ে।
এর মধ্যেই ২০২২ সালে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও বাস্তবে নির্মাণকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেতু নির্মাণে বিলম্বের ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এই অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন কংগ্রেস নেতা ও হাইকোর্টের আইনজীবী রবিউল ইসলাম। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতে এই শুনানি হয়। মামলাকারীর দাবি, সেতু না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াতে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন; শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। আদালতের নির্দেশের পর এখন নজর রাজ্য সরকারের হলফনামার দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার কী ব্যাখ্যা দেয় এবং প্রকল্পে আদৌ গতি আসে কি না, সেটাই দেখার। বহু বছরের অপেক্ষার পর বক্সীপুর ব্রিজ বাস্তবায়িত হবে কি না– এই প্রশ্নেই এখন গোটা এলাকার মানুষের প্রত্যাশা।








