ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন ভারতমাতার বীর সৈনিক মানস
সঞ্জয় মন্ডল, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া:
জাতিতে ক্ষত্রিয়,শরীরের ছিল ক্ষত্রিয় রক্তের তেজ আর চোখে ছিল ভারত মাতা কে রক্ষা করার জন্য সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন।আর সেই স্বপ্ন কে ছোঁয়ার জন্য সূর্য ওঠার আনেক আগেই খেলার মাঠে পৌঁছে শুরু হত প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের শরীর কে ইস্পাতের মত দৃঢ় ও শক্তিশালী করার কসরত। অবশেষে একদিন ছেলেটা নিজের স্বপ্ন কে ছুঁয়ে ফেললো। যোগ দিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। এমনটাই ছিল বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কাপিষ্ঠার ভূমিপুত্র মানস সূর এর জীবন শুরুর গল্প। নিজের স্বপ্নকে ছুতে মানুষ যেমন তিল তিল করে নিজেকে তৈরি করেছিল তেমনই বাবা নাড়ু ও মা শান্তি সূর নিজেদের জীবনের চাওয়া পাওয়া কে দূরে সরিয়ে অভাব ও দারিদ্র্য সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে ও ছেলেকে নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখতে সব সময় পাশে থেকেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মানস যেদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল সেদিন বাবা ও মায়ের চোখের কোনায় আনন্দের অশ্রু চিক্ চিক্ করে উঠেছিল। ভাই মোনজের আনন্দের সীমা পরিসীমা ছিল না। এরপর থেকে অভাবী সংসারটা একটু একটু করে সুখের মুখ দেখেছিল। বাবা-মা মানুষের বিয়ে দেয় প্রিয়ার সাথে। তাদের একটি ছেলেও হয় ,যে ছেলের বয়স এখন সাত বছর। কিন্তু ঈশ্বরের হয়তো এত সুখ আর সহ্য হলো না। আজ থেকে ঠিক ১১ মাস আগে জানা যায় মানসের শরীরে বাসা বেঁধে চে ক্যান্সার। ক্যান্সারের সাথে ১১ মাস লড়াই করার পর অবশেষে মাত্র ৩১ বছর বয়সে জীবনের কাছেপরাজিত হলো মানস। মৃত্যুর কাছে হেরে গেল জীবন। ভারত মাতার এই বীর সন্তানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। অগণিত মানুষ রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের শেষ যাত্রা কে সম্মান জানানোর জন্য জড়ো হয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতন একবার দেখতে ও সম্মান জানাতে সম্মান জানাতে ভিড় করে কাপিষ্ঠা গ্রামে। অশ্রুসজল নয়নে গ্রামের মানুষ শেষ বিদায় জানাই তাদের গ্রামের বীর সন্তান মানস সূর কে। সৈনিকের মর্যাদায় সৈনিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।








