রোগী দেখানোকে কেন্দ্র করে উত্তাল সিউড়ি সদর হাসপাতাল
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত রোগী, ছড়াল চরম উত্তেজনা
খান সাহিল, নতুন পয়গাম, বীরভূমঃ রোগী দেখানোকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে উত্তাল হয়ে ওঠে সিউড়ি সদর হাসপাতাল চত্বর। ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল জুড়ে। অভিযোগ, কাজী আব্দুল রাকিম নামে এক যুবক নিজের চিকিৎসার জন্য সকাল থেকেই সিউড়ি সদর হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও চিকিৎসা না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রোগীর অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও যখন তাঁর নম্বর আসেনি, তখন তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মী তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অভিযোগ আরও গুরুতর—ওই পুলিশ কর্মী তাঁকে জোরপূর্বক লাইন থেকে টেনে বের করে দেন। এই টানাটানির ঘটনায় কাজী আব্দুল রাকিম ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধুও আহত হন বলে দাবি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। “রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে মারধর করা হচ্ছে”—এই অভিযোগ তুলে একাধিক রোগীর পরিবার প্রতিবাদে সোচ্চার হন। উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিউড়ি সদর হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নতুন কোনো ঘটনা নয়। চিকিৎসা পরিষেবার দীর্ঘসূত্রিতা, অব্যবস্থাপনা এবং কর্মীদের আচরণ নিয়ে আগেও বহুবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিবার। শনিবারের ঘটনা সেই ক্ষোভকেই আরও বাড়িয়ে তোলে।
খবর পেয়ে সিউড়ি থানার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এলাকায় শান্তি ফেরে।
যদিও এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বিবৃতি মেলেনি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা। স্থানীয় মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবা ও আচরণগত শালীনতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।







