ক্ষতিপূরণহীন বন্যা দুর্গতরা, বহুদিন পরেও নেই সরকারি সাহায্য.!
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়িঃ
গত ৫ অক্টোবর পাহাড় ও সমতলে ভারী বৃষ্টির জেরে নাগরাকাটা ব্লকের ছাড়তন্ডু এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নদীর জল বাড়িতে ঢুকে পড়ায় একাধিক ঘরবাড়ি ভেসে যায়। জীবন বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে। বন্যার জল নামার পর কেউ কেউ ঘরে ফিরলেও বহু পরিবারের ঘরবাড়ি সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। নদীর তীরবর্তী এই এলাকার মানুষজন জানান, এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তাঁরা এর আগে কখনও দেখেননি। বন্যার পরে প্রশাসনের তরফে ত্রাণশিবির খোলা হয় এবং নিয়মিত ত্রাণসামগ্রীও পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এনজিও সংস্থারাও সহায়তা করেন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন এবং বহু মানুষ সেই অর্থ পেয়েও গেছেন।
তবে ছাড়তন্ডু কলোনি এলাকার বহু পরিবার এখনও বঞ্চিত, অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। এখানকার একাধিক গবাদি পশু, ঘরবাড়ির অংশ নদীতে ভেসে যায়। বিশেষ করে মোস্তফা হোসেন ও শরিফুল হকের পরিবারের একাংশ ঘর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস কেটে গেলেও তাঁরা কোনো অস্থায়ী সমাধান পাননি।
ত্রাণসামগ্রী পেলেও সরকারি ঘর নির্মাণের অনুদান তাঁরা পাননি। দিন আনে দিন খায় – এমন পরিবারের পক্ষে ঘর তৈরি করার মতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব বলেই জানান তারা। তাদের অভিযোগ,
“যাদের বাড়িতে জল ঢোকেনি তারাই সরকারি অনুদান পেয়ে গেছে। অথচ প্রকৃত বন্যাদুর্গতরা কিছুই পাচ্ছে না। প্রশাসন যদি আমাদের দিকে নজর দেয়, তাহলে হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”
এ বিষয়ে নাগরাকাটা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক জানিয়েছেন—“ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের অনুদান বাকি থাকে, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







