রেশম শিল্প ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে: কালিয়াচকে টগবগে গুটি বাজার, পরিদর্শনে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন
এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ:
এক সময় প্রায় মৃত হয়ে পড়েছিল রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প। বাজারে গুটি উৎপাদন কমে যাওয়া, কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রেশম শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ছবি আমূল বদলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিশেষ উদ্যোগে রেশম শিল্পকে পুনর্জীবন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই জানালেন রাজ্যের সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। উল্লেখ্য, রেশম চাষের জন্য মালদহের কালিয়াচকের সুনাম আজ শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এই অঞ্চলের নাম সমানভাবে পরিচিত। কালিয়াচকের তিনটি ব্লক জুড়ে হাজার হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রেশম চাষ ও রেশম শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রেশম শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হল রেশম গুটি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মালদহের কালিয়াচক কোকুন মার্কেটে সেই রেশম গুটির বাজার টগবগে চলেছে, বাড়ছে চাহিদা ও দাম। পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী ও আধিকারিকরা পুরো কোকুন মার্কেট ঘুরে দেখেন। গুটি কোন দামে বিক্রি হচ্ছে, বিক্রেতারা কতটা লাভবান হচ্ছেন, ক্রেতাদের চাহিদা কেমন এসব বিষয়ে কথা বলেন তাঁরা। পাশাপাশি বাজারে গুটি আনতে এসে কৃষকেরা কোন সমস্যা বা সংকটে পড়ছেন, সেটাও খতিয়ে দেখেন। এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জেলা রেশম শিল্প দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদের বৈজ্ঞানিক সুপর্ণা সাহা ও অন্য বিশেষজ্ঞরা। তারা গুটি বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাজারের বর্তমান মান, উৎপাদন গুণমান, এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতামত শোনেন। বৈজ্ঞানিক সুপর্ণা সাহা বলেন, বর্তমানে বাজারে ভালো জাতের রেশম গুটি এসেছে। ফলে কৃষক ও বিক্রেতারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। রেশম শিল্পে আরও উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্যে আমরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি।
মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, একসময় রেশম শিল্প প্রায় মৃত হয়ে গিয়েছিল। আজ যেভাবে এই শিল্প নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর উদ্যোগে রেশম শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মালদহের কালিয়াচক, যা রেশম উৎপাদনের জন্য শুধু রাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত সেখানে আজ হাজার হাজার পরিবার রেশম চাষের উপর নির্ভর করে স্বচ্ছন্দে জীবিকা চালাতে পারছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।
কালিয়াচকের তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রেশম চাষ করে হাজার হাজার পরিবার। রেশম গুটি এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। অতীতে বাজারদর পড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছিলেন গুটিচাষিরা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, পরামর্শ শিবির এবং বাজারের স্বচ্ছীকরণের ফলে সেই শিল্পই ফের লাভজনক হয়ে উঠছে। এবিষয়ে তাদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে রেশম শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি, চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের দিকেও বিশেষ জোর দেবে রাজ্য সরকার। সরকারি উদ্যোগ, বাজারের নতুন প্রাণচাঞ্চল্য এবং কৃষকদের বাড়তি উত্সাহ সব মিলিয়ে মালদহের রেশম শিল্প আবার নতুন সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।








