মুর্শিদাবাদ সীমান্তে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত
ফাহাদ কবীর, নতুন পয়গাম, ডোমকল:
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমার উত্তর চর মাঝারদিয়াড় গ্রামে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হলো জনৈক পীরের মাজারকে ঘিরে বিংশতম বার্ষিক সভা ও ভোজ। সীমান্তবর্তী এই চর অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর বিধানসভার বিধায়ক আব্দুল সৌমিক হোসেন, রাণীনগর ২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোঃ কুদ্দুস আলী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্বরা। সকাল থেকেই হাজারো মানুষের ঢল নামে পুরো এলাকাজুড়ে।
দীর্ঘ বিশ বছর ধরে মুসলিম ও হিন্দু—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বিএসএফ সদস্যদের সহযোগিতায় মাজারকে কেন্দ্র করে এই সভার আয়োজন হয়ে আসছে। ধর্মীয় অনুষ্টান হলেও বহুদিন ধরেই এটি রূপ নিয়েছে মিলনমেলা ও উৎসবে। চারদিকজুড়ে দোকানপাট, ভোজের প্রস্তুতি, মানুষের আনাগোনা—সব মিলিয়ে পদ্মার চরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তার মাঝে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের মানবিক যোগাযোগ আরও নিবিড় হয় এই দিনে।
উত্তর চর মাঝারদিয়াড় আসলে পদ্মার মাঝখানের একটি চর—মুর্শিদাবাদের একেবারে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। কয়েক পা এগোলেই সীমান্তের জিরো লাইন। হারুডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের লাগোয়া এই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খালি চোখেই দেখা যায় বাংলাদেশের রাজশাহী শহরের উঁচু অট্টালিকাগুলো। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মার শাখানদী—সেখানে ডিঙি নৌকায় জেলেদের মাছ ধরার ব্যস্ততা, ছোট-বড় পারাপারের নৌকা, আর উত্তরে প্রবহমান মূল পদ্মা।
সীমান্তের সৌন্দর্য, পদ্মার প্রবাহ এবং দুই দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা দেখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই বিশেষ দিনে। রাসেল সেখ নামে এক দর্শনার্থী বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই এই অনুষ্ঠানে আসি। সীমান্তের দৃশ্য, চরের মানুষের জীবনপ্রণালী আর রাজশাহীর বাড়িগুলো দেখে দেশভাগের ইতিহাস মনে পড়ে। এখানকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সত্যিই অপূর্ব।”
মাঝারদিয়াড়ের সভা আয়োজন আবারও প্রমাণ করল—ধর্ম, জাতি বা ভৌগোলিক বিভাজন নয়; মানবিকতা ও সম্প্রীতিই সীমান্তবাসীর প্রকৃত পরিচয়।







