২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসডিপিআই-এর কনফারেন্স
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম, বহরমপুর:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-এর বিধানসভা লিডারস কনফারেন্স। রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার প্রতিনিধিরা এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ড. কামাল বাশিরুজ্জামান-এর আন্তরিক স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। এরপর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মহম্মদ থুম্বে তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ও চিন্তাশীল বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের মূল আলোচনা শুরু করেন। তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এসডিপিআই-এর নীতি, আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, “আজ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পুঁজিবাদী স্বার্থে কাজ করছে। এসডিপিআই-ই একমাত্র দল, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় এনে প্রকৃত সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।” তিনি তথ্যসহ ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এসডিপিআই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমে আসন জয় করে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
এরপর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম এবং জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ, নীতি এবং জনগণের স্বার্থে তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, “পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের অযোগ্য নেতাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দুর্নীতি, অবহেলা ও বঞ্চনার রাজনীতি চালানো হচ্ছে। সংখ্যালঘু, খ্রিষ্টান, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়কে পদ্ধতিগতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে তৃণমূলের অযোগ্য নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে এসডিপিআই-এর যোগ্য নেতৃত্বকে বিধানসভায় পাঠানোর।”
সম্মেলনের শেষে সবনম মুস্তারী মহাশয়া সকল বক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম ও জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম। হাকিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের পথে ঠেলে দিয়ে রাজ্যের চিকিৎসা কাঠামোকে কার্যত ধ্বংস করা হয়েছে। বহু হাসপাতাল আজ অচল অবস্থায়, আর হাজার হাজার স্কুলে শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সরকারকে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “SIR প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সন্দেহজনক। আমরা দাবি করছি, ২০০২ সালের মতো স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে এই সংশোধন কার্য সম্পন্ন হোক।”
এদিনের এই কনফারেন্স মূলত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে রাজ্য কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত থেকে দলীয় কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।








