বিএলও বাড়িতে প্রবেশের পরেই মৃত্যু পৌঢ়ের ধূপগুড়িতে
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি
এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধূপগুড়িতে। বাড়িতে ফর্ম দিতে যাওয়া মাত্রই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক পৌঢ়ের মৃত্যুর অভিযোগ ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মৃতের নাম লালু রাম বর্মন (৭১)। তিনি বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর দক্ষিণ ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় লালু রাম বর্মনের নাম ছিল না। সেই থেকেই তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল বেলা যখন বি এল ও এসআইআরের ফর্ম নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান, তখনই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন লালু রাম বর্মন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বাড়িতেই মারা যান করেন।
মৃতের পুত্রবধূ মতি মালা বর্মন বলেন, “আমার শ্বশুরের ভোটার লিস্টে নাম ছিল না, ভোটার কার্ডও ছিল না। সেই কারণেই তিনি বেশ আতঙ্কে ছিলেন। আজ যখন বি এল ও ফর্ম দিতে বাড়িতে এলেন, তখনই তিনি ঘাবড়ে যান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।”
প্রতিবেশী ভূপাল শীল জানান,“লালু রামবাবু দীর্ঘদিন ধরেই এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় ভয় পেয়েছিলেন। আজ ফর্ম দিতে বি এল ও বাড়িতে পৌঁছাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমাদের ধারণা, এসআইআর-সংক্রান্ত আতঙ্কেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”
বি এল ও সুমিত দাস বলেন, “আমি ওই বাড়িতে ফর্ম দিতে গিয়েছিলাম, পাঁচজন সদস্য ছিল চারজনকে ফর্ম দেই।এরপর পাশের বাড়িতে খেতে যাই, আবার ফিরে যখন লালু রাম বর্মনের বাড়িতে আসি শুনি তিনি মারা গেছেন। কেন মারা গেছেন কি ব্যাপার ভোটার লিস্টে নাম ছিল কিনা এই বিষয়ে কোন কিছু বলতে পারব না। ”
তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। অসুস্থতা থেকেই মৃত্যু হয়েছে, নাকি ভোটার কার্ড না থাকা ও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকেই আতঙ্কে প্রাণ হারালেন তিনি তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে এলাকায়।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও চাঞ্চল্য।







