দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রথমবার কলেজ পড়ুয়াদের হাতে-কলমে ড্রোন প্রশিক্ষণ
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, বারুইপুর:
বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। সেই প্রযুক্তির হাত ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রথমবার কলেজ পড়ুয়াদের হাতে-কলমে ড্রোন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হল। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মজগতের সংযোগ ঘটাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (SVIST)-এর ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
বারুইপুরের গোবিন্দপুরে অবস্থিত SVIST ক্যাম্পাসে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এই শিবিরের মূল দুটি বিষয় ছিল—
১. “ওয়েব ডিজাইনিং, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও আধুনিক আইটি টুলসে উদ্ভাবন”
২. “ড্রোন টেকনোলজিতে উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ ডেভেলপমেন্ট।”
শতাধিক কলেজ পড়ুয়া অংশ নেয় এই কর্মশালায়, যার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা।
প্রথম দিনে ওয়েব ডিজাইন ও মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেন দুই শিল্প বিশেষজ্ঞ—ইনফোমিডিয়া-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হরিদাস প্রামানিক এবং সিনিয়র ওয়েব ও অ্যান্ড্রয়েড ডিজাইনার গোবিন্দ সরকার। তাঁরা লাইভ ডেমো, হাতে-কলমে প্র্যাকটিস ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ওয়েব ইন্টারফেস ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির প্রাথমিক ধারণা দেন।
দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় ড্রোন টেকনোলজি ও স্টার্ট-আপ ডেভেলপমেন্ট-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। এদিন উপস্থিত ছিলেন শিল্পক্ষেত্রের দুই বিশেষজ্ঞ—ড্রোনস টেক ল্যাব-এর ইউএভি ইঞ্জিনিয়ার (R&D) সৌভিক ভুঁইয়া এবং ইডিবিয়োনেড-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার শুভ্রদীপ রায়। তাঁরা ড্রোনের কার্যপ্রণালী, কন্ট্রোল সিস্টেম, এবং আধুনিক এয়ারিয়াল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ দেন।
এস.ভি.আই.এস.টি.-র অধ্যক্ষা ড. সোনালি ঘোষ বলেন,
“আমাদের প্রতিষ্ঠান সবসময় ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় উদ্ভাবন, দক্ষতা বিকাশ এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে এসেছে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে।”
ECE বিভাগের যুগ্মপ্রধান ও সহকারী অধ্যাপক শীষেন্দু ভট্টাচার্য অনিন্দ্য ঘোষ জানান,
“এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত চাহিদার সঙ্গে তাদের মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।”
শিবিরের আহ্বায়ক ও ECE বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তথা ট্রেনিং অ্যান্ড প্লেসমেন্ট অফিসার ড. আতাউর সাফি রহমান বলেন,
“এই শিবির একাডেমিক জ্ঞান ও বাস্তব শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা জাগ্রত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।”
দু’দিনের এই প্রশিক্ষণ শেষে উচ্ছ্বাসে ভরপুর কলেজ পড়ুয়ারা জানায়, ড্রোন ও প্রযুক্তি নিয়ে এই হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পথে নতুন দিশা দেখাবে।







