টার্গেট পয়েন্ট স্কুলে মেধা প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন
এম নাজমুস সাহাদাত
নতুন পয়গাম, কালিয়াচক: ২ নভেম্বর, রবিবার মালদা জেলার অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্গেট পয়েন্ট আর স্কুল-এ অনুষ্ঠিত হল ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মেধা প্রবেশিকা পরীক্ষা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত—কালিয়াচক, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, গাজোল এবং ইংলিশবাজার থেকে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে পরীক্ষার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল।
সূত্রের খবর, পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও ভূগোল বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধা মূল্যায়ন করা হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজির হোসেন বলেন, “টার্গেট পয়েন্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের লক্ষ্য গ্রামাঞ্চলের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করা। ভবিষ্যতে তারা যেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষে মেডিক্যাল নীট, জে ই ই (NEET, JEE) -র মতো জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে দেশ ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে— সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি।”
স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কুরবান সেখ জানান, প্রতিবারের মতো এবারও মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এখানে শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা ও সামাজিক মূল্যবোধের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের উদ্দেশ্য এমন ছাত্রছাত্রী তৈরি করা যারা উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাবে এবং সমাজে উদাহরণ সৃষ্টি করবে।”
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্কুলের কর্ণধারগণ— মোসাঈদ হক, জোহুর আহমেদ, হায়দার আলি, রফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা সর্বক্ষণ নজরদারিতে ছিলেন। তাদের নিষ্ঠা ও তৎপরতায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী এই মেধা পরীক্ষা।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টার্গেট পয়েন্ট আর স্কুল মালদা জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে স্বীকৃত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী রাজ্যের নামী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে এবং বহু শিক্ষার্থী কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, কথ্য ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষায় বিশেষ নজর দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, নিয়মিত টার্ম পরীক্ষা, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
২০২৬ সালের মেধা প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজন সম্পর্কে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়— “আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও উচ্চমানের জায়গায় পৌঁছাতে পারে। টার্গেট পয়েন্ট সেই স্বপ্ন পূরণের নিরন্তর সঙ্গী।”
এদিনের সফল আয়োজন আবারও প্রমাণ করল—শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় নয়, বরং চরিত্র গঠন, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরতার পথেও টার্গেট পয়েন্ট আর স্কুল একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।








