BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যার ৬২ বছর। আজো রহস্য উদঘাটন হল না, এও এক রহস্য!!

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:০০

বিশেষ প্রতিবেদন

আরও পড়ুন:

আজ থেকে ৬২ বছর আগে নভেম্বরের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল। একপশলা বৃষ্টির পর আকাশ ঝকঝক করছে। আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে সাজসাজ রব। শহরের বাসিন্দারা সকাল থেকে সেজেগুজে সড়কের পাশে জড়ো হচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির রোড-শো শুরু হবে। সঙ্গে ফার্স্ট লেডি জ্যাকুলিন কেনেডিও থাকবেন। এই দম্পতি তখন দেশে ও দেশের বাইরে তুমুল জনপ্রিয়। সবাই নিজের চোখে তাঁদের দেখতে উদ্গ্রীব।
দিনটি ছিল ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর শুক্রবার। আগের দিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি স্ত্রীকে নিয়ে টেক্সাসের হিউস্টনে এসেছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি ছিল তাঁদের রাজনৈতিক সফর। যদিও তখনো কেনেডি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পরই তিনি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে কেনেডি দম্পতিকে স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মুখোমুখি ছিল আমেরিকা। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরের বছরই ‘কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট’ তৈরি হয়। যে সংকট সামলে বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। কিন্তু পরের বছরই আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। আড়াই বছরের একটু বেশি তিনি দেশ শাসন করেন। এত অল্প সময়েও তিনি যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা খুব কম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাগ্যে জুটেছে।
একটি কালো রঙের ছাদখোলা লিমুজিনে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। পাশে বসা গোলাপি রঙের পোশাকে স্ত্রী জ্যাকুলিন কেনেডি। গাড়িতে তাঁদের সামনের সিটে বসে ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর জন কনালি ও তাঁর স্ত্রী নেলি। সড়কের দু-পাশে হাজার হাজার মানুষ কেনেডি দম্পতিকে দেখে হাত নাড়ছিলেন, খুশিতে চিৎকার করছিলেন। প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিও হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দিচ্ছিলেন। শহরের বিভিন্ন পথ পেরিয়ে শোভাযাত্রা ডিলি প্লাজার দিকে এগোচ্ছিল। ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর সাড়ে ১২টা ছুঁই ছুঁই।
ডিলি প্লাজার মেইন স্ট্রিট থেকে কনভয় ঘুরে টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ…মাথা কাত করে স্ত্রীর গায়ে ঢলে পড়েন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। পরে প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে ও মাথায় গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। গভর্নর কনালির পিঠেও গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত প্রেসিডেন্টকে নিয়ে গাড়িটি দ্রুতবেগে কাছের পার্কল্যান্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালে ছুটে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের তখন আর কিছু করার ছিল না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আধা ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান গভর্নর কনালি। আততায়ীর গুলিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হয়েছেন — এ খবরে শুধু আমেরিকাই নয়; সারা বিশ্বের জন্য শোকের ছায়া নেমে আসে।

আরও পড়ুন:

হত্যাকারী লি হার্ভি অসওয়াল্ড:

আরও পড়ুন:

একটি উঁচু ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল আততায়ী। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়। গ্রেপ্তার হয় ঘাতক ২৪ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা লি হার্ভি অসওয়াল্ড। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে অসওয়াল্ডের বক্তব্য কেউ জানার সুযোগ পায়নি। কারণ, গ্রেপ্তার হওয়ার দুই দিন পরই এক নৈশক্লাবের মালিক জ্যাক রুবি ডালাসের পুলিশ সদর দপ্তরে ঢুকে সেখানকার বেসমেন্টে একেবারে সামনে থেকে গুলি করে অসওয়াল্ডকে হত্যা করেন।
ওই সময় পুলিশ অসওয়াল্ডকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল, টেলিভিশনে সরাসরি তা দেখানো হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ রুবিকে গ্রেপ্তার করে। পরে বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রুবি আপিল করলে তাঁর সাজা বাতিল হয় এবং নতুন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রুবি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই রুবি মারা যান ১৯৬৭ সালের ৩ জানুয়ারি। অসওয়াল্ড নিহত হওয়ায় কেনেডি হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। হত্যাকাণ্ড ঘিরে অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উঠে আসে।

আরও পড়ুন:

John F. Kennedy assassination conspiracy theories - Wikipedia

ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব:

আরও পড়ুন:

২০২২ সালে কেনেডির হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার মতো একটি শীর্ষ দেশের প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হল, আর সন্দেহভাজন হত্যাকারী ধরা পড়ার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুই দিনের মাথায় তাঁকেও একেবারে সামনে থেকে গুলি করে মারা হল, বিষয়টি অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হত্যাকারী অসওয়াল্ডকে ঘিরেও ছিল অনেক প্রশ্ন। কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্রুত অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াতে থাকে। কারণও ছিল। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট কেনেডি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা চলাকালে। কেনেডি হত্যার পর যেকোনো সময় পরমাণু যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
কেনেডি হত্যা-রহস্য উদ্ঘাটনে মার্কিন সরকারের নিয়োগ করা কমিশন তদন্তের পর বলেছিল, অসওয়াল্ড একাই এ কাজ করেছেন, তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের কথা কমিশন নাকচ করে দেয়। কিন্তু কমিশন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। লি হার্ভি অসওয়াল্ড কেনেডি হত্যাকাণ্ডের আগে বেশ কিছু সময় সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিলেন। বলা হয়, তিনি সোভিয়েতের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। তবে কেনেডি হত্যাকাণ্ডের আগের বছর তিনি মার্কিন মুলুকে ফিরে আসেন। কোনো কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে দাবি করা হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কিউবার পক্ষ হয়ে এ কাজ করেছেন অসওয়াল্ড। আরেক তত্ত্বে দাবি করা হয়, এর পেছনে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র হাত ছিল। এমনকি কেউ কেউ তো কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের হাত থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনিই নাকি প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে ছিলেন।
২২ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট কেনেডির মৃতদেহ লাভফিল্ড বিমানবন্দর নিয়ে এসে এয়ারফোর্স ওয়ানে রাখা হয়। মৃতদেহ নিয়ে আকাশে ওড়ার আগেই ভিড়ে ঠাসা কেবিনের ভেতরেই ৩৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন লিন্ডন বি জনসন। বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে জনসনকে শপথবাক্য পাঠ করান মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক সারাহ হিউজ। সিআইএ এবং এফবিআই আগে থেকে এ রকম এক হুমকির ব্যাপারে কতটা জানত, তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। অনেকের বিশ্বাস, কেনেডির ওপর গুলি চালিয়েছিলেন একজন নয়, দু-জন বন্দুকধারী।

আরও পড়ুন:

Assassination of John F. Kennedy - Wikipedia

প্রত্যক্ষদর্শীর স্বীকারোক্তি:

আরও পড়ুন:

২২ নভেম্বর জন এফ কেনেডি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা পল ল্যান্ডিস। কেনেডির লিমুজিনের পেছনের গাড়িতেই তিনি ছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস-কে সাক্ষাৎকারে ল্যান্ডিস কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওয়ারেন কমিশনের দেওয়া ‘একক বুলেট তত্ত্ব’কে চ্যালেঞ্জ করেন। ওয়ারেন কমিশনের ওই তত্ত্বে বলা হয়, একটি গুলিই প্রেসিডেন্ট কেনেডির মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে বেরিয়ে গভর্নর কনালির পিঠ, কবজি ও ঊরুতে আঘাত করে। গুলি কনালির পিঠ দিয়ে প্রবেশ করে তাঁর ফুসফুসে আঘাত করেছিল। একটি গুলি কীভাবে সাতটি ক্ষত তৈরি করে, তা নিয়ে এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা ওয়ারেন কমিশন কখনোই ল্যান্ডিসের সাক্ষাৎকার নেয়নি। ল্যান্ডিস নিজেও কখনো এ বিষয়ে সামনে এসে মুখ খোলেননি। প্রায় ৬০ বছর চুপ থাকার পর ৮৮ বছর বয়সী পল ল্যান্ডিস তাঁর স্মৃতিচারণামূলক বই নিয়ে প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। কেনেডির রহস্যময় হত্যাকাণ্ড নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশ পায় ল্যান্ডিসের বই ‘দ্য ফাইনাল উইটনেস’। পল ল্যান্ডিস তাঁর বইয়ে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বরের ঘটনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিবরণ দিয়েছেন। তবে ল্যান্ডিস বইয়ে লিখেছেন, তিনি কেনেডি হত্যা নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করতে চান না।

আরও পড়ুন:

President Kennedy Challenges NASA to Go to the Moon

যেমন ছিলেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি:

আরও পড়ুন:

জন এফ কেনেডির পুরো নাম জন ফিটজেরাল্ড কেনেডি। ১৯৬১ সালের ২০ জানুয়ারি ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথ নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। অভিজাত ও মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসা জন এফ কেনেডি কেমন প্রেসিডেন্ট ছিলেন? অনেকের কাছে তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী ক্যারিশমাটিক নেতা। কেনেডি আমেরিকাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচিয়েছেন। বর্ণবাদে বিভক্ত আমেরিকাকে এক সুতায় গাঁথতে কাজ করেছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির হোতা রিচার্ড নিক্সনকে ১৯৬০ সালের নির্বাচনে পরাজিত করেছেন।
তবে নিন্দুকের কাছে কেনেডি ‘প্লেবয়’; যিনি হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর সঙ্গে গোপন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাকে দীর্ঘায়িত করেছেন। নাগরিক অধিকারকে তিনি রাজনৈতিক সমস্যা নয়; বরং নৈতিক সংকটের দৃষ্টি থেকে দেখে সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এসব নিন্দুক মনে করেন, কেনেডির মৃত্যু তাঁকে ট্যাবলয়েড পত্রিকার রসালো শিরোনাম হওয়ার যাতনা থেকে রক্ষা করেছে। হলিউড তারকা মেরিলিন মনরো বা মাফিয়া জুডিথ ক্যাম্পবেলের সঙ্গে দহরম-মহরম তাঁকে এমন অবস্থায় ফেলতেই পারত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেনেডি তাঁর আড়াই বছরের শাসনামলে নাগরিক অধিকার নিয়ে নানা কাজ করলেও ওই বয়সে বড় ধরনের কোনো সামাজিক পরিবর্তন চাননি। কারণ, তাঁর মনে ভয় ছিল, ওই বয়সে এত বড় কাজ করতে গেলে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুন:

Why We Still Don't Have the JFK Assassination Files - POLITICO

গোপন নথি প্রকাশ:

আরও পড়ুন:

কেনেডি হত্যার পর প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেন। কমিশনের প্রধান করা হয় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর্ল ওয়ারেনকে। ১৯৬৪ সালে কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অসওয়াল্ড একাই কেনেডিকে হত্যা করেছেন। তাঁর সঙ্গে আর কারও জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ১৯৯২ সালের ‘জেএফকে রেকর্ডস অ্যাক্ট’ নামের একটি আইনের অধীন ২০১৭ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সব গোপন নথি প্রকাশ করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে কয়েক দফায় হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছর মার্চেও কেনেডির গুপ্তহত্যা নিয়ে দুই হাজারের বেশি গোপন নথি প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
কেনেডি নিহত হওয়ার পর মার্কিন সরকার এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তা যে সঠিক নয়, নতুন প্রকাশিত নথিতে এর পক্ষে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল, প্রকাশিত নথি নতুন করে তাতে আলো ফেলেছে। এসব নথিতে কেনেডির হত্যাকারী সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যদিও কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পর ছয় দশকের বেশি পেরিয়ে গেছে, এখনো বেশির ভাগ মার্কিন এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারি বয়ানে বিশ্বাস করেন না।
এ নিয়ে ২০২৩ সালে একটি জরিপ চালায় জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ। তাতে উঠে আসে, ওয়ারেন কমিশনের উপসংহার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ৬৫ শতাংশ মার্কিন। মার্চে প্রকাশিত নতুন নথিতে ওয়ারেন কমিশনের টানা উপসংহার ছাড়া তেমন নতুন কিছু সামনে আসেনি। তবে নতুন প্রকাশিত নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেনেডিকে হত্যার আগে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কিউবার দূতাবাসে গিয়েছিলেন অসওয়াল্ড।
একটি নথিতে কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে অসওয়াল্ড কখন সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সেই নথি অনুযায়ী, চাকরি ও মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমান অসওয়াল্ড। তিন বছর পর ১৯৬২ সালে আবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। ওই নথিতে সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির নিকোনভ নামে একজন গুপ্তচরের নাম রয়েছে। তিনি সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থায় থাকা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছেন, অসওয়াল্ড কখনো কেজিবির গুপ্তচর ছিলেন কি না।
মার্কিন সরকারের নজরদারিবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অসওয়াল্ড যুক্তরাষ্ট্রে আবার ফিরে আসার পর তাঁর গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারি করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসওয়াল্ড গুলি চালানোর ক্ষেত্রে তেমন দক্ষ ছিলেন না বলে ধারণা করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ হত্যাকাণ্ড–সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সিআইএ ও এফবিআইয়ের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করতে পেরেছিলেন মাত্র ২ হাজার ৮০০টি নথি। ট্রাম্পের পর জো বাইডেনের প্রশাসন আরও প্রায় ১৭ হাজার নথি প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder