ভেনেজুয়েলায় সেনা নামানোর ফন্দি ট্রাম্পের
নতুন পয়গাম, কারাকাস:
অতি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন, তার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে সিআইএ-কে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোচ চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সেকথা গর্বের সঙ্গে স্বীকারও করেন এবং রীতিমতো কৃতিত্বও দাবি করেন। এবার জানা গেল, সরাসরি ভেনেজুয়েলায় সেনা অভিযানের মতলব আঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ অত্যাধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজকে তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রচার ছড়িয়েছে, ভেনেজুয়েলায় নিষিদ্ধ মাদক উৎপাদন হয় এমন এলাকায় অভিযান চালানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার প্রচারকে কড়া আক্রমণ করেছে ভেনেজুয়েলা। লাতিন আমেরিকার কট্টর আমেরিকা বিরোধী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘‘বিকৃত, অপরাধমূলক এবং চূড়ান্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলায় নিষিদ্ধ মাদক তৈরি হয় না। কোকেন তৈরির চক্র ভেনেজুয়েলায় নেই। দেশের পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় কোকেন উৎপাদন থেকে মুক্ত করা গিয়েছে ভেনেজুয়েলাকে।’’

আন্তর্জাতিক স্তরে মাদক পাচার সংক্রান্ত আলোচনায় ভেনেজুয়েলা উৎপাদক বা পাচারকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিতও নয়। ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত বামপন্থী শাসনকে জোর করে উচ্ছেদের জন্য মাদক পাচারের অজুহাত দিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে আমেরিকা। ক্যারিবিয়ানে মোতায়েন করা হয়েছে আমেরিকার নৌবাহিনীকে।
এদিকে আমেরিকার সামরিক সজ্জার সমালোচনা করেছেন কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেট্রো। ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোকে মাদক পাচারকারী বলেছেন। আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করেছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের দেশগুলির জোট আলবা। জানা গিয়েছে, একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক জলভাগে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জলযানকে আক্রমণ করছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। সম্প্রতি একটি জলযানে গোলা ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে। গত মাসে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ক্যারিবিয়ানে আমেরিকার নৌসেনার গোলায় নিহত হয়েছে ভেনেজুয়েলার ৪৩ নাগরিক। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ৯৫ শতাংশ নাগরিক শান্তির পক্ষে। আমেরিকা কি যুদ্ধ চাইছে? যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে যোগ্য জবাব দিতে তৈরি ভেনেজুয়েলার জনতা।








