তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে মরিয়া ট্রাম্প
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন:
আমেরিকার সংবিধানে লেখা আছে, সে দেশে কেউ দু-বারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। কিন্তু সেই লাগাম ছিঁড়ে কীভাবে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়া যায়, সে নিয়ে একাধিকবার মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। সোমবার ফের বললেন, তিনি ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন না। তবে কি তিনি আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন? কিন্তু কীভাবে সম্ভব? সংবিধানকে কি তিনি সংস্কার করে এটা করবেন? এদিকে তার এই অদম্য বাসনার কফিনে শেষ পেরেকে পুঁততে কয়েকদিন ধরে মার্কিন মুলুকে প্রতিবাদ, বিক্ষভ চলছে। তাদের স্লেআগান রাজা চাই না, প্রেসিডেন্ট চাই।

এর আগেও ট্রাম্প সংবিধানে নির্ধারিত দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একবার এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা টুপি দেখিয়ে কৌতূহল বাড়িয়েছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু সহযোগী তাঁর এসব ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তার ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত করতে আইনি বা রাজনৈতিক পথ খোঁজার কথা বলছেন। অবশ্য বেশিরভাগ আইনবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এমন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কেউ তৃতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ট্রাম্পের কিছু সমর্থক পরামর্শ দিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার একটা উপায় হতে পারে, ট্রাম্প হয়ত পরের বার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। বিজয়ী হলে পরে ইস্তফা দেবেন, তখন ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন বলেই তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও লড়তে পারবেন না। মার্কিন সংবিধানের ১২তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্যও যোগ্য হবেন না।’
এদিন মালয়েশিয়া থেকে জাপান যওয়ার সময় বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বল্যেন, তৃতীয় মেয়াদের সম্ভাবনা আছে। আমি এটা করতে চাই। আমার জনসমর্থন এখন সবচেয়ে বেশি। তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট না হতে পারার যে নিদান সংবিধানে রয়েছে, তাকে বেশি চালাকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প ২০২৮ সালে ফের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলে তখন তাঁর বয়স হবে ৮২ বছর। সে ক্ষেত্রে তিনি হবেন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। এদিকে ট্রাম্পের অন্যতম রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বলেন, পরিকল্পনা চলছে, সঠিক সময়ে সব বিস্তারিত জানাতে পারবেন সবাই। ট্রাম্প হলেন ‘ঈশ্বরের ইচ্ছার ফসল’।








