ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’— ভোটাধিকার হরণের বিপজ্জনক পদক্ষেপ, অভিযোগ SDPI এর
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ভোটার তালিকা ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন অভিযান’ (Special Intensive Revision–SIR) নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও বিরোধিতা জানাল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)। সংগঠনের জাতীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শফির অভিযোগ, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হতে চলা এই অভিযানের লক্ষ্য— কমিশনের দাবি অনুযায়ী মৃত ও পুনরাবৃত্ত ভোটার নাম বাদ দিয়ে তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করা। কিন্তু SDPI-র বক্তব্য, বাস্তবে এটি এক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত প্রচেষ্টা, যা নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে।
সংগঠনের দাবি, বিহারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া একই প্রক্রিয়ায় ৬৫ লক্ষাধিক ভোটারের নাম বিনা যাচাইয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন দরিদ্র, সংখ্যালঘু, দলিত, নারী ও পরিযায়ী শ্রমিক। এখন সেই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াকেই সারা দেশে পুনরায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।
SDPI নেতা অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন আজ আর সংবিধানের রক্ষক নয়, বরং শাসক দলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।” তিনি জানান, কমিশন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রেখে জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে।
দলটির মতে, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি— যা কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা প্রযুক্তিগত কারচুপির মাধ্যমে খর্ব করা যায় না। এই পদক্ষেপ ভারতের গণতান্ত্রিক আত্মার উপর সরাসরি আঘাত।
SDPI-র দাবি, সুপ্রিম কোর্টে চলমান বিহারের মামলাকে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করা হোক এবং সমস্ত রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা হোক, যতক্ষণ না বিচারিক তত্ত্বাবধান ও পূর্ণ জনস্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
সংগঠনের বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা— “ধর্ম, শ্রেণি বা অঞ্চল নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের গণনা ও ভোটদানের অধিকার অবিচ্ছেদ্য। এই অধিকার হরণের যে কোনো প্রচেষ্টা ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে বিপন্ন করছে।”








