তেলেঙ্গানায় মিম সমর্থন দিল কংগ্রেসকে
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
মিম সুপ্রিমো আসাদ উদ্দীন ওয়েইসি এবার কংগ্রেসকে সমর্থন করলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে অন্ধ্রপ্রদেশে ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য হওয়ার পর থেকে এই দুই দলের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না। বহুকাল পর এবার তারা পারস্পরিক মতভেদ দূরে সরিয়ে কাছাকাছি এল। মঙ্গলবার সরাসরি কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেন ওয়েইসি। হায়দরাবাদের জুবিলি হিলস বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মিম প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থন করবে বলে জানালেন ওয়েইসি, যা রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
মিম এবং কংগ্রেস বরাবরই বিজেপি বিরোধী হলেও আঞ্চলিক রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কারণে উভয় দল আসন সমঝোতা করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারছিল না। বরং তারা নিজেদের মধ্যেই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। উল্লেখ্য, হায়দরাবাদে এতদিন ওয়েইসির মূল প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল কংগ্রেস। কারণ, কংগ্রেসের আশঙ্কা ছিল ওয়েইসির সঙ্গে নাম জড়ালে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। কিন্তু অন্যভাবে বিষয়টাকে উপস্থাপন করত। কংগ্রেস বলত, তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে বিজেপির সুবিধে করে দিচ্ছে মিম। অর্থাৎ মিম হল আসলে বিজেপিরই বি-টিম। তবে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণও ছিল অন্যরকম। যাহোক, এবার কিন্তু ছবিটাই বদলে যাচ্ছে।

এতদিন তেলেঙ্গানার শাসক ছিল বিআরএস। আর বিআরএসের সঙ্গে মিম সুসম্পর্ক রেখে চলত। কিন্তু বছর দুয়েক আগে রাজ্যে পালাবদলের পর বিআরএস এখন ক্ষয়িষ্ণু। ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। তাই বিআরএস এখন বিজেপির কাছাকাছি এসেছে। তাই কংগ্রেস এবং মিম নিজেদের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই বিজেপিকে জোরদার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার তাগিদেই কাছাকাছি এল। সেই কারণেই হায়দরাবাদের জুবিলি হিলস বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করলেন ওয়েইসি। উল্লেখ্য, এই আসনে ২০২৩ সালে কংগ্রেস প্রার্থী ক্রিকেটার মহম্মদ আজহার উদ্দীনকে হারিয়ে জয়ী হয় বিআরএস। সেই জয়ী প্রার্থীর সম্প্রতি মৃত্যু হলে উপনির্বাচন হচ্ছে।
বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে আসার পর তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর রেবন্ত রেড্ডির জন্য এই আসন প্রেস্টিজ ফাইট। কারণ, ইতিমধ্যেই সেখানে বিজেপির শক্তি কিছুটা বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে, রেবন্তই নাকি ওয়েসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এদিকে ওয়েসির বক্তব্য হল, “এই ভোটে তো আর সরকার বদলাবে না। তাই রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে কংগ্রেস সরকারকেই সমর্থন করা দরকার। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আটকানো খুবই দরকার।” কিন্তু বিহারে কংগ্রেসের মহাজোটে মিমকে রাখা হয়নি। সেখানে একাই লড়ছে মিম প্রার্থীরা।








