গোর্খাল্যান্ড ‘ললিপপ’ ছাড়া কিছু নয়: সিপিএম
নতুন পয়গাম, দার্জিলিং:
গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের তরফে আচমকা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগকে নির্বাচনের আগে ‘ললিপপ’ বলল সিপিএম। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ‘বিস্ময়’ জানিয়ে ইতিমধ্যেই শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে গোর্খা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দার্জিলিঙ পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সে বসবাসকারী গোর্খা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার জন্য আইপিএস পঙ্কজ কুমার সিং-কে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। মমতা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লিখেছেন যে প্রশাসন পরিচালনা, শান্তি এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য এই নিয়োগ, সেসবই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র আওতায় পড়ে। জিটিএ হল রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা।

এদিকে সিপিএম-এর দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেছেন, ‘গোর্খা সম্প্রদায়ের দাবিগুলি নিয়ে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে আলোচনার জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ‘ললিপপ’ ছাড়া কিছু নয়। এটি আইওয়াশ বা মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। ২০০৯ সাল থেকে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য বানানোর ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ভোট আদায় করে আসছে। চতুরতার সঙ্গে নিত্য নতুন উদ্যোগের নাম করে তারা জনগণকে প্রতারিত করছে। বর্তমানে গোর্খাল্যান্ড হোক, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হোক বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান — প্রতিটি নির্বাচনে তারা পাহাড়ের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে।
অন্যদিকে দার্জিলিঙ পাহাড় এবং ডুয়ার্সে সাম্প্রতিক বন্যা ও ধসে বিপুল ক্ষয়ক্ষতিকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বামপন্থীরা। সে বিষয়ে কোনও সাড়াশব্দ নেই কেন্দ্রের। পরিকাঠামো এবং পর্যটনের নামে প্রকৃতি লুটের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারকেই দায়ী করেছে সিপিএম।








