দাদুর হাতে নৃশংস খুন ৫ বছরের নাতনি প্রত্যুষা, স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্য
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, সোনারপুর:
অমানবিকতার চূড়ান্ত রূপ সোনারপুরে। নিজের হাতেই মাত্র পাঁচ বছরের নাতনি প্রত্যুষা কর্মকারকে খুন করলেন দাদু প্রণব ভট্টাচার্য (৮১)। পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে তাঁর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত নিজেই জানিয়েছেন—
“নাতনি প্রায়ই বিরক্ত করত, চুল টানত, কথা শুনত না, খেতে চাইত না। রাগে তাই কুপিয়ে খুন করেছি।”
এই স্বীকারোক্তিতে স্তব্ধ তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, “দাদু-নাতনির সম্পর্ক মানেই স্নেহ-আদরের বন্ধন। সেখানে এক দাদু এমন নিষ্ঠুরভাবে নাতনিকে খুন করতে পারেন—তা কল্পনার অতীত।”
রবিবার রাতে সোনারপুরের কোদালিয়া কদমতলায় নিজের বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ছোট্ট প্রত্যুষার দেহ। প্রথমে ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশা থাকলেও সোমবার রাতেই রহস্যের জট খুলে ফেলে পুলিশ। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় দাদু প্রণব ভট্টাচার্যকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় দিদা মালা ভট্টাচার্য ছিলেন বাথরুমে, বাবা-মা কাজে বাইরে, আর গৃহপরিচারিকাও ছিলেন না বাড়িতে। সেই সুযোগেই ঘুমন্ত নাতনিকে কুপিয়ে খুন করেন অভিযুক্ত দাদু। শিশুটির গলা, পিঠ, পেট, পা, মুখ এমনকি গোপনাঙ্গেও ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। দিদা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত নাতনিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে পড়শিরা ছুটে আসেন, কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় ছোট্ট প্রত্যুষার।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, সে রকম কিছু ঘটেনি। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, অভিযুক্ত মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কি না।
এদিকে, এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। কোদালিয়া কদমতলা ইউনাইটেড ক্লাব এবছরের কালীপুজো স্থগিত করেছে। পাড়া-প্রতিবেশীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এলাকায় জ্বলবে না আলো, পোড়ানো হবে না আতশবাজি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রণব ভট্টাচার্যের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই খিটখিটে ও অসহিষ্ণু ছিল। রবিবার সকালেও তিনি পরিচারিকার সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানান, “আক্রোশে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছে ছোট্ট প্রত্যুষাকে। এমন নৃশংসতা সত্যিই বিরল।”
বর্তমানে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে পুলিশি নজরদারিতে। ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চলছে।







