ওয়াইসি ফ্যাক্টর বিহারে কেমন প্রভাব ফেলবে? ঘোলা জলে মাছ ধরতে পিকে-মিম কি বিজেপির সুবিধা করবে?
নতুন পয়গাম, পাটনা:
বিহার ভোটের আর মাত্র দু-সপ্তাহ বাকি। এখনও এনডিএ বা ইন্ডিয়া দুই প্রধান জোট আসন সমঝোতা পাকাপাকি করে উঠতে পারেনি। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী উভয় শিবিরেই দড়ি টানাটানি, দর কষাকষি তুঙ্গে। এই সুযোগে তৃতীয় ও চতুর্থ সারির দলগুলো মাঠে নেমে পড়েছে। যেমন জন সুরাজ পার্টি, মিম ইত্যাদি। এসব ছোটখাট দলগুলো প্রধান দুই শিবিরের রাতের ঘুম একপ্রকার কেড়ে নিয়েছে বলা যায়। বিহারের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম। রবিবার দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
আসাদ উদ্দীন ওয়াইসি বলছেন, তারা এবার বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হতে চায়। তাদের প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়েছে বিহারের বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে। মিমের তালিকায় সিওয়ান থেকে মোহাম্মদ কাইফ, গোপালগঞ্জ থেকে আনাস সালাম, কিশানগঞ্জ থেকে শামস আগাজ, মধুবনী থেকে রশিদ খলিল আনসারি ও আরারিয়া থেকে মোহাম্মদ মনজুর আলমের মতো প্রভাবশালী লোকদের নাম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিম-এর এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আরজেডি ও কংগ্রেসের মহাজোট এবং নীতীশ, চিরাগ ও বিজেপি জোটে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘু ভোটের একাংশকে টানার চেষ্টা করছেন ওয়াইসি। এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের দ্বিমেরু রাজনীতির মাঝখানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে মাঠে নেমেছেন ব্যারিস্টার ওয়াইসি। কিন্তু মিম কি আদৌ বিহার ভোটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে? এ প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
৫ বছর আগে শেষ বার বিধানসভা ভোটে সীমাঞ্চলে মাত্র একটি আসন পেয়েছিল মিম। কংগ্রেস ইতিমধ্যে ৪৮ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা এবং ৫টি আসনে দ্বিতীয় তালিকা ঘোষণা করেছে। বিজেপি একতরফা ৭১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, উভয় পক্ষের মহাজোট মসৃণ হচ্ছে না। শেষমেষ কিছু আসনে সমঝোতা হবে না। সেসব জায়গায় শরিকরা মুখোমুখি বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই করবে। তবুও মোটা দাগে জোট থাকবে। কোথাও কোথাও আসন সমঝোতা হবে।
বিজেপি চাইছে, ওয়াইসির মতো মুসলিম দলগুলো প্রার্থী দিক। তাতে হিন্দুত্ববাদী ভোট গেরুয়া শিবিরের দিকে আরো বেশি ঝুঁকবে বা এককাট্টা হবে। সব মিলিয়ে এবার বিহারে ভোটের সমীকরণ বা রসায়ন জটিলই থাকবে। তবে বিজেপি বরাবরই ঘোলা জলে মাছ ধরতে ওস্তাদ। তাই পিকে, মিম ইত্যাদি যত বেশি লড়বে, ততই বিজেপির জেতার পথ সহজ হবে। তাই কেউ কেউ বলছেন, পিকে-মিম ইত্যাদি আসলে বিজেপির তুরুপের তাস। বিজেপিই এদেরকে ব্যবহার করছে।








