BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

জাতীয় শিক্ষানীতি: ফুটোপাত্রে সুপেয় পানীয়

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮

স্নিগ্ধদীপ চক্রবর্তী

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম:

আরও পড়ুন:

২০২০-তে করোনার আবির্ভাব এবং মিশ্রপাঠ-পদ্ধতি (Choice-based Credit System বা CBCS)-র তিরোভাব প্রায় একইসঙ্গে। অথচ ‘রজনীকান্ত আয়া’-র মতো প্রবল ঢাকবাড়িতে এর জন্ম হয়েছিল। অকাল মরণের মধ্য দিয়ে মহাপ্রাণ সিবিসিএস আমাদের জন্য যা দান রেখে গেল, তারই নাম জাতীয় শিক্ষানীতি (New Education Policy বা NEP)। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ইতিহাস ঘাঁটলে অবশ্য National Policy of Education বা NPE (১ম খসড়া: ১৯৮৬, পরিমার্জিত ২য় খসড়া: ১৯৯২)-তে এর বংশ-বীজ খুঁজে পাওয়া যাবে।
আমরা, যারা ‘জুরাসিক যুগ’-এর শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছি, যাদের সামনে অনার্স-পাসের সুস্পষ্ট ও সুসংগত বিভাজন ছিল, আমরা যারা বার্ষিক পরীক্ষায় বসতাম, গৌরবোজ্জ্বল প্রাচীন ভারতের শেষ ছটার মতো আমরা যারা পেয়েছিলাম কিছু প্রণম্য গুরুকে — তারা ঈশ্বর গুপ্ত-র মতো যুগসন্ধিতে পড়ে গেলাম। যে ভারত একদিন চিরন্তন জ্ঞান, নিত্যনব ধারণা ও নাড়া দেওয়া দর্শনের জন্ম দিয়েছিল; যেখানে জ্ঞান (Knowledge), প্রজ্ঞা (Wisdom) এবং সত্য (Truth)-এর ত্রিবেণি সংগমকে জীবনের পালনীয় পথ, ঈর্ষনীয় সঞ্চয় ও রক্ষণীয় স্তম্ভ বলে মনে করা হত — সিবিসিএস তাতে প্রথম ধাক্কাটা দিল। ‘জ্যাক অব অল ট্রেড্স’ বানানোর রাষ্ট্রীয় খেলা কাউকে ‘মাস্টার’ হতে দিল না। গণহারে অ্যারিস্টট্ল বানানোর কল শিক্ষানীতি হিসেবে ব্যর্থ হলেও গো-পাঁঠা তৈরির রাজনীতি হিসেবে সফলতা পেল। আর শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল এনইপি। কেন একথা বলছি, তার জন্য এনইপি-র কাঠামোটুকু অন্তত বুঝে নেওয়া দরকার।
স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ যে ২০৩০ পরিকল্পনা নিয়েছিল, তার চতুর্থ লক্ষ্য (SDG4) ছিল বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অগ্রগতি, ভারত যা ২০১৫-য় পরিগ্রহণ করে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমদর্শিতা প্রদর্শন শতাব্দীর প্রথম শিক্ষানীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিসমূহ ও দেশের মূলগত চেতনার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ও মনাঙ্ক (EQ) উভয়ের জোড়-কলম নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে।
শিক্ষকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিয়ে তার শিক্ষণশৈলীকে শীর্ষ নিতে সহায়তা দান — নতুন নীতির এও এক কথা। এই নব্য ও সংশোধিত শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হল প্রকৃত শিক্ষকের ধী ও শাশ্বত শিক্ষার আলোকে সর্বত্র সঞ্চারী করে তোলা। উন্নততর শিক্ষাপ্রদান যেন শিক্ষার্থীর ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বের ব্যাপার হতে পারে। বিশেষত, শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা এ-যাবৎ অবহেলিত এবং একেবারে প্রান্তিক স্তরে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জীবনের মানোন্নয়নের কথা বারংবার বলা হয়েছে। বাস্তবতা ও মানবতার যুগ্মফোঁড় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাযোগ্য মানুষ করে তুলবে — এহেন আশাবাদ এই নতুন শিক্ষানীতির সবথেকে স্পর্শপ্রবণ জায়গা।
রচনা হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতি অত্যন্ত সুপাঠ্য স্বীকার করতেই হয়। একে বুকে রাখলে আমরা একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে পারতাম। কিন্তু সময় ও যুগের সঙ্গে-সঙ্গে, স্থান-কাল-প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিতের কারণে সত্যের আদর্শ বদলে যেতে পারে, বদলে যায়। যা আমেরিকায় সত্য, তা সোমালিয়ায় সত্য নয়। যা কলকাতায় সত্য, তা পুরুলিয়ায় সত্য নয়। এরাজ্যের সরকারপোষিত একটি প্রত্যন্ত কলেজের আর্টসের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে আমি (অন্তত উচ্চশিক্ষায়) এনইপি-কে যা দেখেছি, তা নেহাতই প্রপঞ্চময়।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষা এখন পূর্ণদৈর্ঘ্যের নাটক। ভর্তির নিদর্শপূরণ, ভাতা (শুনতে খারাপ লাগলে পড়ুন স্কলারশিপ)-এর জন্য আবেদন, কতিপয় শ্রেণিপাঠ, অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন, চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ষণ্মাসকাল গেলেই পরের ষণ্মাসে ভর্তির জন্য নিদর্শপূরণ এবং চরৈবেতি। অপিচ, প্রযুক্তির প্রগতিতে অতিরিক্ত আনুগত্য বিশুদ্ধ পাঠদানের সময়কে সংকুচিত করে শিক্ষণ ও অধ্যয়নের আনন্দকে নষ্ট করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মৌল পড়াশোনার চেয়ে আনুষঙ্গিক ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব আরোপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তো তাদের বাউল আনন্দ — যেন পূর্ণ নম্বর পাওয়া এক সাংবিধানিক অধিকার। শিক্ষকের কাছ থেকে কৌশলে সম্ভাব্য প্রশ্ন জেনে নেওয়ার তাগিদটুকুই চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে কয়েকটা দিন তাদের মহাবিদ্যালয়মুখী করে। ফকিরের কেরামতিতে বক মারাই তাদের লক্ষ্য ও মোক্ষ। এখন আর শতাংশের গল্প নেই — গ্রেড। রেজাল্টের গ্রেড আর শিক্ষার্থীদের গ্রেড ক্রমশ ব্যস্তানুপাতিক হয়ে পড়েছে।
তৃতীয়ত, প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।
চতুর্থত, রাজ্যের অধিকাংশ কলেজই শিক্ষক নিয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবে ধুঁকছে। এমন অনেক কলেজ আছে, যেখানে সাবস্ট্যানসিভ পোস্টে কোনও ফুল-টাইম টিচার দীর্ঘদিন ধরেই নেই। স্টেট-এইডেড কলেজ টিচার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন — এমন উদাহরণও রয়েছে। সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে রেকমেন্ডেড হতে হলে চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষার্থীর ডক্টরাল ডিগ্রি থাকবার বাধ্যবাধকতার কথা ইউজিসি-র নির্দেশিকায় নেই। তর্কের খাতিরে এনইপি-র চার বছরের ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি ব্যাচেলর’র প্রোগ্রাম উইথ রিসার্চ’-এর অনির্বচনীয়ত্ব যদি স্বীকার করেও নিই, তাকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে গেলে যত সংখ্যক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী স্থায়ী অধ্যাপক কলেজগুলোয় থাকা প্রয়োজন, তা নেই।
পঞ্চমত, স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পার করার পরে মানুষে-মানুষে সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষ্যম্যের অবসান ঘটেনি। ই-লার্নিং-এর ওপর যে জোর এনইপি-তে দেওয়া হয়েছে, আসলেই তা মুষ্টিমেয়ভোগ্য হয়ে রয়েছে আজও। ক্ষুধার গদ্যময় পৃথিবীতে পাগলা হাওয়া ইন্টারনেটের স্বপ্ন অন্ধের জ্যোৎস্নাবিলাসের মতোই দুঃখকর। এমনকি, রাজধানী শহর বা অন্যান্য বড় শহরের কুলীন কলেজগুলির সাপেক্ষে আমাদের মতো অজ জঙ্গলের কলেজগুলির পরিকাঠামো কহতব্য নয়। এনইপি মডেল সেখানে নাটকের টেক্সট বুক হিসেবে পড়তে খুবই ভাল লাগে, কিন্তু তা মঞ্চস্থ করা যায় না।
ষষ্ঠত, খুব স্বাভাবিক কারণেই আমাদের পূর্ব-প্রজন্মের বেশিরভাগ অধ্যাপক নেট বা টেক-স্যাভি নন। তা যুগকারণ — দোষবহ নয়। এনইপি-তে এমন কোনও পথরেখার উল্লেখ নেই, যাতে তাঁরা প্রযুক্তি-ব্যবহারে দড় হয়ে উঠতে পারেন। কেন্দ্র ও রাজ্য কোনও সরকারকেই এনইপি-র বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে কোনও কর্মশালার আয়োজন করতে অদ্যাবধি দ্যাখা যায়নি, যা থেকে অধ্যাপকেরা তাঁদের পেশাকে নিখুঁত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে শিখতে পারেন। অতএব, পাহাড়ের সেই ইঁদুর পাড়ার গল্পই শেষমেষ দাঁড়াল। ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল, কিন্তু জুতসই লাগামের অভাব তাতে অশ্বগতি দিতে পারল না।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।

আরও পড়ুন:

(লেখক:পুরুলিয়া বিজিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder