যে সয়, সে রয়; যে না সয়, সে নাশ হয়
এই পৃথিবী একটা রঙ্গ মঞ্চ। এখানে চলে জীবন নিয়ে খেলা। জীবনের যুদ্ধটা একান্তই নিজের ব্যক্তিগত। কেউ আপনার জন্য ভাত বেড়ে বসে থাকবে না, কিন্তু বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার লোকের অভাব হবে না। কেউ আপনার হাত ধরে টেনে তুলবে না, যদি আপনি নিজেই উঠে দাঁড়াতে না চান। হাত ধরা তো দূরের কথা, সবাই খুঁজবে অজুহাত। আপনি গোল্লায় বা উচ্ছন্নে গেলে অন্যের কী?
আপনার বাবা-মা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন, খাইয়ে-পরিয়ে এবং পড়িয়ে মানুষ করেছেন, কিন্তু জীবনে আপনি কতদূর যাবেন – তা আপনার ওপরেই নির্ভর করছে। বাসে যেমন লেখা থাকে, মাল নিজের দায়িত্বে রাখুন। এই দুনিয়াতেও তেমনি, আপনার দায়িত্ব আপনাকে নিজেকেই নিতে হবে। কীট-পতঙ্গ, পোকা-মাকড় থেকে যেমন ফুলের বাগানকে সযত্নে রক্ষা করতে হয়, তেমনি টক্সিক মানুষ থেকে নিজেকে সামলাতে হবে। দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এসব যাবতীয় গুরুদায়িত্ব আপনারই। কেউ আপনার জন্য সুযোগ করে দেবে না, সুযোগের সদ্ব্যবহার আপনাকেই করতে হবে। তাই অপেক্ষা না করে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। ফোকাস ঠিক রাখতে হবে। কক্ষচ্যুত হলে হবে না। কথায় বলে, যে সয়, সে রয়, আর যে না সয়, সে নাশ হয়। ধৈর্য্য ধরতে হবে। সবর কা ফল মিঠা। চটজলদি কিছু হয় না। শর্টকার্টে মহৎ প্রাপ্তি হয় না। Temporary solution creates permanent problem. একদিন আপনারও সুযোগ আসবে। সেটাকে চিনতে হবে।
পৃথিবীটা কঠিন। দুর্বলদের জায়গা নেই। যোগ্যতমের উদবর্তনই মুখ্য। যোগ্যতা থাকলে আপনাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আপনার প্রতিভার চারাগাছ অঙ্কুরিত হয়ে একদিন মাটি ফুঁড়ে উঠবেই। তারপর তাকে পরিচর্যা করতে পারলে মহীরূহ হবে, কেউ আটকাতে বা ঠেকাতে পারবে না। জীবন কখনো কারও জন্য থেমে থাকবে না। আপনি ব্যর্থ হলে মানুষ হয়ত সাময়িক দুঃখ প্রকাশ করবে, চোখের জল ফেলবে, তারপর ধীরে ধীরে সব ভুলে যাবে। অপেক্ষা আপেক্ষিক মাত্র। কারো জন্য কিছু থেমে থাকবে না। শূন্যস্থান কেউ না কেউ পূরণ করবে। তাই শক্ত হতে শিখুন। মনোবল বাড়াতে শিখুন। মনে যদি বল থাকে, তাহলে আপনি অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারেন। যা আপনি নিজেও কল্পনা করতে পারবেন না। এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে ভেতর থেকে শক্ত হতে হবে। আর ভিত মজবুত করতে হবে। অস্ত্র ফেলে রেখে যুদ্ধ করা আহাম্মকের কাজ।
কষ্ট হবে, কিন্তু কেউ তা দেখবে না। আপনি হয়ত দিন-রাত কাজ করছেন, কষ্ট করছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন, লড়াই-সংগ্রাম করছেন, একা নির্জনে নীরবে কাঁদছেন। কাউকে কিছু বলতে না পেরে চোখের জল ফেলে নিজেকে নিজে হালকা করছেন। নিজের কষ্টের সাক্ষী আপনিই। সবাই শুধু রেজাল্টটাই দেখবে, আপনার মেধা পড়াশোনা অধ্যবসায় কেউ দেখবে না, দেখেও দেখবে না কিংবা আপনাকে যথার্থ মূল্যায়ন করবে না। মূল্য দেবেন একমাত্র ওপরওয়ালা। মানুষ আপনার দাম দিলেও মূল্য দিতে পারবে না।
অজুহাত দিলে পিছিয়ে পড়বেন। যদি সব সময় excuse দেন বা নিজেকে victim মনে করেন, তাহলে জীবন কখনো পাল্টাবে না। হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। আপনারও অনেক ভাল দিক আছে, অনেক ভাল গুণ আছে। আপনিও ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারেন। বদ্ধ ঘর থেকে বেরিয়ে দু-চোখ মেলে জগতকে দেখুন। প্রতিদিন একটু একটু করে চিন্তা-ভাবনার পরিধি ও পরিসর বাড়াতে সচেষ্ট হন। আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করিয়ে নিজের কৈফিয়ত নিজেই নিন। আপনিই আপনার পরীক্ষক। সময়কে হেলাফেলা করবেন না। সময়ের মূল্য না বুঝলে চড়া দাম দিতে হবে। অন্যের ওপর দোষ চাপানো, অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজা বন্ধ করুন। কেউ আপনার হাত না-ই ধরুক, আপনার তো দুটো হাত আছে। একটা হাত দিয়ে আরেকটা হাত শক্ত করে চেপে ধরুন। ব্যাস, তাহলেই আপনি হয়ে যাবে জিরো থেকে হিরো।








