রাশিয়া থেকে আর তেল কিনবে না ভারত, মোদি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন: ট্রাম্প
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন:
রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর দু-দফায় ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বেজায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমেরিকাকে পশ কাটিয়ে রাশিয়া-চীন বলয়ের দিকে এগোতে থাকে ভারত সরকার। আর তাতেই ট্রাম্পের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে পড়ে। তিড়বিড়িয়ে জ্বলে উঠে ইউরোপের দেশগুলোকে ট্রাম্প অনুরোধ করেন, তারা যেন ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যদিও ইউরোপ সেপথে হাঁটেনি। তাই পুরনো মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের বেজায় গুসসা হয়।
এই প্রেক্ষিতে কৌশলী ট্রাম্প বুধবার দাবি করলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত আর রাশিয়া থেকে খনিজ তেল বা জ্বালানি কিনবে না। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘উনি আমায় আজই আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাশিয়া থেকে তাঁরা আর তেল কিনবেন না। আমরা চাই চীনও একই পথে হাঁটুক। মোদি আমার বন্ধু। একজন ভাল মানুষ। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, তাহলে কী ট্রাম্পই ভারতের বিদেশনীতি ও বাণিজ্য নীতি স্থির করে দিচ্ছেন বা দেবেন? লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘মোদিজী ট্রাম্পের ভয়ে ভীত’।
ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার থেকে ভারত তেল কিনছে বলে মস্কোর অর্থনীতি মজবুত হচ্ছে। তাই ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই রাশিয়ার কিছু করতে না পেরে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। সেই শুল্ক কমানো নিয়ে লাগাতার বৈঠক হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনতে পারবে না। এবং ট্রাম্পের সেই আজ্ঞা মতোই, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানি কমিয়েছে ভারত! গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি রুশ তেল কেনার পরিমাণ ৪৫ শতাংশ কমিয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ক্রেপলার।
তারা বলছে, ভারত দৈনিক রাশিয়া থেকে ১১ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা কমে হয় ৬ লক্ষ ব্যারেল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই কাটছাঁট কেন? তবে কী ট্রাম্পের কাছে মাথা নোয়াচ্ছে মোদি সরকার? এরই মধ্যে ট্রাম্পের নতুন দাবিকে ঘিরে নয়া বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প বরাবরই আলটপকা মন্তব্য করতে ওস্তাদ। তাই তার সব কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়।








