বর্ধিষ্ণু গ্রাম ময়দা — ইতিহাস, কাহিনি আর ভক্তির মেলবন্ধন
হাসান লস্কর, নতুন পয়গাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
সুন্দরবনের উপকূল ঘেঁষা, জয়নগর থানার অন্তর্গত ময়দা গ্রাম— একসময় ছিল দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বর্ধিষ্ণু গ্রাম। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে এর নাম। পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী তাঁর ‘আত্মচরিত’ গ্রন্থে যেমন ময়দার উল্লেখ করেছেন, তেমনই প্রাচীন কাব্যেও মিলেছে এর পরিচয়।
আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই গ্রামের পরিচিতি আজ পাতালভেদী দক্ষিণাকালী মন্দিরে। শতাব্দীপ্রাচীন এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক কাহিনি। কথিত আছে, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের এক পূর্বপুরুষ বজরায় ভ্রমণের সময় দেখেন এক কন্যা বকুলগাছের ডালে দোল খাচ্ছে। পরে স্বপ্নে সেই বালিকা জানায়— সে পাতালভেদী দক্ষিণাকালী, বকুলগাছের গোড়ায় শিলাখণ্ড খুঁড়ে মন্দির স্থাপন করতে হবে। সেই নির্দেশেই প্রতিষ্ঠা হয় ময়দানবেশ্বরী দক্ষিণাকালীর মন্দির।
‘ময়দা’ নামটিরও রয়েছে দুটি কাহিনি। কেউ বলেন, রাবণের শ্বশুর ময়দানবের বাসস্থান ছিল এই গ্রামেই, তাঁর নামেই নাম ‘ময়দা’। আবার অনেকে মনে করেন, পর্তুগিজ জলদস্যুরা আদিগঙ্গার তীরের এই অঞ্চলকে বলত ‘মদিয়া’, সেখান থেকেই উৎপত্তি ‘ময়দা’।
এখনও কালীপুজোয় মন্দির প্রাঙ্গণে উপচে পড়ে ভক্তসমাগম। ভাদ্র মাসের তালনবমী, শ্রাবণের অম্বুবাচী, বৈশাখ ও মাঘের প্রথম দিন, এমনকি জ্যৈষ্ঠপূর্ণিমা ও শারদনবমীতেও হয় বিশেষ পুজো। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার পুজো উপলক্ষে বসে বড় মেলা, যা ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা।
ময়দা আজও তার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ভক্তির আলোয় উজ্জ্বল— একদিকে কাব্যের পৃষ্ঠা, অন্যদিকে কালীমায়ের আশীর্বাদ, এই দুই-ই যেন গ্রামটিকে করে তুলেছে এক অনন্য তীর্থভূমি।







