বিহারে জোটে ঘোঁট, নীতীশকে থোড়াই কেয়ার একতরফা বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা, ফাটল চওড়া এনডিএতে
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটে ক্রমেই ফাটল বাড়ছে। অমিত শাহ হস্তক্ষেপ করেও সুরাহা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবার শুরু থেকেই বলছেন, জোটে কেউ ছোট-বড় নয়। সবার সমান অধিকার। তাই গত বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে বিজেপি সবথেকে বড় দল হলেও নীতীশ ১০০ আসনের দাবি করেন। বিজেপির ওপর চাপ বাড়াতে সপ্তাহ দুয়েক আগে নীতীশ এবং চিরাগ পাসোয়ান কয়েকটি আসনে একতরফা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিলেন। এবার বিজেপি দেখাতে চাইল যে, তারাও কম যায় না। কারণষ তারা বিহারে সবথেকে বড় দল, আবার কেন্দ্রেও তাদেরই সরকার। তাই নীতীশকে ঢিঁট করতে জেডিইউকে অন্ধকারে রেখেই মঙ্গলবার দিল্লি থেকে প্রথম দফার ৭১ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে।
এমতাবস্থায় আসন সমঝোতা নিয়ে আরও আলোচনা চেয়েছেন নীতীশ। কিন্তু তাঁর দাবি অগ্রাহ্য করে কেন আচমকা এতগুলো আসনে বিজেপি একাই প্রার্থী ঘোষণা করল, সে কৈয়িফত চান নীতীশ। জানা গিয়েছে, ঘোষিত ৭১ জনের প্রার্থী তালিকায় এমন একাধিক আসনে বিজেপি নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে, যেগুলিতে প্রার্থী দেওয়ার দাবি করেছিলেন নীতীশ। এমনকি জেডিইউয়ের কোটার আসন চিরাগ পাসোয়ানকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নীতীশ একটু সমঝে চলছেন। দলকে জানিয়ে দিয়েছেন যেন আবার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিশেষ কিছু আসনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে বিজেপির এমন একবগ্গা প্রার্থী ঘোষণায় নীতীশ ভীষণই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এমন কয়েকটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, বা চিরাগের দল এলজেপি-কে দিয়েছে, যেখানে নীতীশের হেভিওয়েট বিধায়ক, মন্ত্রীরা গতবার জিতেছেন। এই অবস্থায় জিদ বাড়িয়ে নীতীশও ঘনিষ্ঠ মহলে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি এবং জেডিইউ উভয়েই ১০১টি করে আসনে লড়বে। আসন রফা নিয়ে আর বেশি আপস করতে নারাজ নীতীশ। কারণষ তাঁর মনে হচ্ছে, কেন্দ্রে মোদি সরকারকে তার দলই ঠেকনা দিয়ে রেখেছে। তারা সরে গেলে পড়ে যাবে মোদির কেন্দ্র সরকার। তাই তারা খুব বেশি নরম হতে চাইছে না। কিন্তু এমন ভান করছে যে, পল্টুরাম নীতীশ সরে গেলেও কেন্দ্রে অন্য কোন নতুন সঙ্গীকে টেনে নিয়ে সরকার বাঁচিয়ে ফেলবে মোদি-শাহরা। এ তো তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার।
এদিকে নীতীশ বলেছেন, একটাও জয়ী বিধায়কের আসন ছাড়া হবে না। মঙ্গলবার রাতেই বিজেপিকে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিজেপি দিল্লির নেতারা আর কোনও রদবদল করতে রাজি নয়। সুতরাং সব মিলিয়ে এনডিএ শিবিরে ফাটল ক্রমেই বাড়ছে। নীতীশের জায়গা দখল করে নিচ্ছে চিরাগ পাসোয়ান। কারণ, বিজেপি মনে করছে, টানা ক্ষমতায় থেকে নীতীশের ভাবমূর্তি এখন অনেকটা ব্যাকফুটে।








