নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী মুখ্যমন্ত্রী: সেলিম
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১৪ অক্টোবর:
‘মহিলাদের রাতে বেরনো প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তাতে পুরুষতান্ত্রিক এবং নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী ভাবনাচিন্তা প্রকাশ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আরজি করকাণ্ডেও একই কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে এমন কথা শোভা পায় না। তারা নারী স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন তথা মহিলাদের অগ্রগতিকে মেনে নিতে পারে না। সোমবার এভাবেই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকার এবং শাসক দলকে তুলোধনা করেন সেলিম।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুরে মেডিক্যাল পড়ুয়ার দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো ঘটনা। ওই মেয়েটি একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ছিল। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১২টায় বেরলে কার দায়িত্ব? যতদূর জেনেছি, জঙ্গলের মধ্যে ঘটেছে ঘটনাটি। তদন্ত চলছে। আমি হতবাক। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিকে সতর্ক হতে হবে। পড়ুয়াদের ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল ও যত্নবান হতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের রাতের বেলা বেরতে দেওয়া উচিত নয়। মেয়েদেরকেও নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এলাকায়।
এই মর্মে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে সেলিম বলেন, আরজি করের ঘটনা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসন কোন শিক্ষা নেয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কোন অপরাধ বোধ নেই। একটা প্রগতিশীল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কখনও এই ধরনের কথা বলতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা হয়েও প্রতিটা নির্যাতনের ঘটনার পর মহিলাদের দোষ দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের কথা অপরাধীদের সাহস বাড়ায়।
সেলিম আরো বলেন, রাম মোহন রায়, বিদ্যাসাগর যে পথ দেখিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী তার উল্টো পথে হাঁটছেন। পুলিশকে দলীয় কাজে ব্যবহার করছে তৃণমূল। থানা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অপরাধীকে ছাড়িয়ে এনেছেন। গোটা পুলিশ-প্রশাসনকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সেলিম বলেন, মমতা দুর্গাপুর নিয়ে প্রথম থেকেই মিথ্যা কথা বলছেন। এই নিয়ে বিবৃতি দিতে বা মুখ খুলতে কেন ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর?








