হাতির উপদ্রবে অতিষ্ঠ ডুয়ার্সের গ্রামবাসী
ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ স্কোয়াড অফিসে বিক্ষোভ
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ডুয়ার্স:
জঙ্গল লাগোয়া এলাকার গ্রামবাসীদের জীবন এখন কার্যত হাতির আতঙ্কে বিপর্যস্ত। প্রায় প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে হাতির দল। ধান ও সবজির ক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়ে ভেঙে দিচ্ছে বাড়িঘর। ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেও মিলছে না কোনও সাহায্য— এমনই অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খবর দেওয়া সত্ত্বেও বনকর্মীরা প্রায়ই ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছান। অনেক সময় গাড়িতে বসেই শুধু সাইরেন বাজিয়ে চলে যান। এতে হাতির দল কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে আসে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে।
ক্ষুব্ধ কৃষক গোপাল রায় বলেন, “প্রতিদিন হাতির দল এসে ফসল নষ্ট করছে, ঘর ভাঙছে। বনকর্মীদের ফোন করলেও তারা সময় মতো আসে না। লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনও ক্ষতিপূরণ পাইনি।”
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান মরারঘাট রেঞ্জ অফিসে। এরপর মঙ্গলবার দুরামারি চানাডিপা গ্রামের মানুষ বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ স্কোয়াড অফিসে বিক্ষোভে সামিল হন।
আজ সকালেও ফের বিক্ষোভে উত্তাল হয় ওই অফিস চত্বর। শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা বনদপ্তরের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, “নিয়মিত নজরদারি ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
অন্যদিকে, বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ স্কোয়াডের রেঞ্জ অফিসার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেন, “ক্ষতির অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করি। খবর পেলেই কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান ও হাতির দলকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবুও যদি কোথাও ত্রুটি থাকে, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাস্তবে বনদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হাতির উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দিলে, তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।








