ধূপগুড়িতে বন্যাকবলিত দুর্গতদের বাড়ি ফেরানোর কাজ শুরু
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি এবার মানবিক মুখে দেখা গেল ধূপগুড়ি থানার পুলিশকে। বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাড়িঘর মেরামত ও দুর্গতদের ঘরে ফেরানোর কাজে নামলেন তারা।
ব্লকের কুল্লাপাড়া, অধিকারীপাড়া সহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় শনিবার থেকে পুলিশের উদ্যোগে বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ধূপগুড়ি থানার পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই কাদা পরিষ্কার করছেন, ভেঙে যাওয়া দেয়াল মেরামত করছেন, এমনকি দুর্গতদের ঘরে ফিরে যেতে সহায়তা করছেন।
ব্লক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গধেয়াকুঠী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
গত শনিবারের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। হোগলাটারি, বগরিবাড়ি, কুর্শামারি সহ একাধিক গ্রাম জলের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এখন সেই সব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাড়ি মেরামত ও মানুষকে ঘরে ফেরানোর কাজ চলছে।
শুক্রবার ধূপগুড়িতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদ, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গেইলসেন লেপচা, আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্য, এবং ডাউকিমারি ফাঁড়ির ওসি রমেন লস্কর সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীরা। তাঁরা স্থানীয়দের সঙ্গে একযোগে কাজ করেন— কোথাও ইট-খোয়া বয়ে নিচ্ছেন, কোথাও ঘরের কাদা পরিষ্কার করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদ বলেন,
“বন্যায় যেসব বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছিল বা কাদায় ভরে গিয়েছিল, সেগুলো আমরা পরিস্কার করছি। দুর্গত মানুষদের তাঁদের নিজেদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন ধরে তাঁরা রিলিফ ক্যাম্পে ছিলেন। আমরা চাই, সবাই যেন আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেন।”
ধূপগুড়ি পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে এলাকায় প্রশংসার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “এই উদ্যোগে আমরা বুঝতে পারছি— পুলিশ শুধু আইন রক্ষাই করে না, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়ও।”
প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ধূপগুড়ির বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে জোরকদমে।








