মরু-বাতাস থেকে জলের সুলুক সন্ধান দিয়ে নোবেল ৩ রসায়নবিদ
নতুন পয়গাম, স্টকহোম:
এবছর রসায়নবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন সুসুমু কিতাগায়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগির। বুধবার এদের নাম ঘোষণা করেছে স্টকহোম রয়াল সুইডিশ আকাদেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড নোবেল আকাদেমি। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে এরা পাবেন মোট ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন। ভারতীয় মুদ্রায় ১০ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৩২ টাকা।
এই তিনজনের যুগান্তকারী আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে মরুভূমির বাতাস থেকে জল তৈরি করতে পারে, বন্দি করতে পারে কার্বডাই অক্সাইডকে, বিষাক্ত গ্রিন হাউস ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসকে ধরে রেখে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। সুইডিশ আকাদেমি অব সায়েন্সেস বলছে, তিন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’। জৈব পদার্থের অণুতে ধাতব আয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছে তাঁদের তৈরি রাসায়নিক কাঠামো।
জাপানের কিয়টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. সুসুমু কিতাগায়া হাইড্রোকার্বন নিয়েই মূলত গবেষণা করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও তিনি। আমেরিকান নাগরিক রিচার্ড রবসন রসায়ন পড়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ওমর এম ইয়াগির-এর জন্ম জর্ডনের রাজধানী শহর আম্মানে। আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন পিএইচডি। এখন তিনি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
রসায়ন বিষয়ক নোবেল কমিটি আরো বলেছে, ’মেটাল-অর্গানিক কাঠামো বিশ্লেষণ নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। অতি পরিচিত বহু দ্রব্যের নতুন ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এদের গবেষণা ও আবিষ্কার। যা পরিবেশের সুরক্ষায় অনবদ্য কাজে লাগবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশগত দিক থেকে দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে আধুনিক বিশ্ব। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জেরে ঘনীভূত হচ্ছে দূষণ-সংকট। প্রযুক্তির সাফল্য সত্ত্বেও ছিঁটেফোটা পরিবর্তন হয়নি উষর মরুভূমির। আজও এক ফোঁটা জলের জন্য লড়াই করতে হয় সেখানে। একবিংশ শতাব্দীতে মানব সভ্যতার এই সংকটে বিশল্যকরণী হয়ে উঠেছে এই তিন রসায়ন বিজ্ঞানীর গবেষণা। তাঁদের আবিষ্কার মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক আসলে একটি আণবিক কাঠামো। যা প্রয়োগ করে ধূ ধূ মরুভূমির বাতাস থেকে জল সংগ্রহের পর তা পানের উপযোগী করা সম্ভব। দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড বা বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ করে মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের দিশা দেখিয়েছেন এই বিজ্ঞানী ত্রয়ী। সেই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রসায়নে এবার নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা।








