পাহাড়ে ক্ষতি হাজার কোটি, হেলদোল নেই কেন্দ্রের: জিটিএ
নতুন পয়গাম, শিলিগুড়ি:
উত্তরবঙ্গের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বহর সব অংককে ছাপিয়ে হাজার কোটি পেরিয়ে গেছে। যদিও এখন বৃষ্টি থেমেছে। নতুন করে আর কোথাও ধস নামেনি। সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পাহাড় এবং সমতলের জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক হয়েছে। ধসে যাওয়া সড়কপথে মেরামতের কাজ চলছে জোরকদমে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও ফের লোকজন ভিড় করছে। খুলে গিয়েছে টাইগার হিল, সান্দাকফু, ম্যাল। চারদিন পর বুধবারও পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে ক্ষতচিহ্ন বিদ্যমান।
সরকারি তথ্য বলছে, শুধু পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়েই ক্ষতির পরিমাণ অন্য সব জায়গাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমামণ হাজার কোটি টাকাও বেশি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখলেও পাহাড়ের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে কেন্দ্র সরকার বা বিজেপির কোন মাথাব্যথা নেই। বিজেপি চাইছে বিপর্যয় মোকাবিলায় নাজেহাল হোক রাজ্য সরকার। এতে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্লাস পয়েন্ট হবে — এমনই অভিযোগ পাহাড়ের ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের। তারা আক্ষেপ করে বলছেন, বিজেপির এমপি-এমএলএ-রা বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন, আসছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও। কিন্তু ত্রাণ কোথায়? কেন্দ্রের তরফে ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ কোথায়? বুধবার এমনই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েেছে পাহাড় প্রশাসন তথা জিটিএ কর্তৃপক্ষ।
মাত্র চারদিন আগে শনিবার প্রকৃতির তাণ্ডবে প্রবল বর্ষণ, ধস, ঝোরা ও নদীর জলস্ফীতিতে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা বিপর্যস্ত হয়। রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি, হোম-স্টে, চাষের জমি, চা-বাগান, স্কুল, জলের লাইন সব তছনছ বা লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। এখনও ধসে চাপা বহু গ্রাম। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দার্জিলিং, পুলবাজার, জোড়বাংলো, সুখিয়াপোখরি, রংলিরংলিয়ট, মিরিক। পাহাড়ের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ। তরাই, ডুয়ার্সেও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনি ও রবিবার পাহাড় এলাকায় অন্তত ৪৬০টা ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ৫৪২টি বাড়ি, ৬৭টি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কলকাতা ফেরার আগে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কার্যালয় উত্তরকন্যা-য় সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ। এখন বিপুল সংস্কার কাজ চলছে। নাগরাকাটা সেতু সারানোর কাজ শুরু হয়েছে। মিরিকে পাকা সেতু নির্মাণ হচ্ছে। কয়েক হাজার পর্যটককে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাশাপাশি এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, বিহারে সামনেই ভোট আছে বলে ছটপুজোয় বিমানভাড়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গে এতবড় দুর্যোগের পর কেন বাগডোগরা থেকে কলকাতার বিমান ভাড়া বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হল?’
এদিকে এদিন বিজনবাড়ি এলাকায় যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ও স্থানীয় বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জিটিএ-র কর্মকর্তারা। তারা বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির কথা জানালেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি এমপিরা কিছুই বলেননি।








