বিহারে জোট নিয়ে ঘোঁট, শরিকি দ্বন্দ্বে নাজেহাল এনডিএ-ইন্ডিয়া উভয় শিবির
নতুন পয়গাম, পাটনা:
সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারই বিহারে ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হাতে আর এক মাসও সময় নেই। এর মধ্যেই শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে হবে, তারপর মনোনয়ন জমা দেওয়া, তারপর দেওয়াল লিখন এবং ভোট প্রচার। এতকিছু ঝক্কি মেটাতে হবে মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে। কিন্তু এখনও শরিকি দ্বন্দ্বই মেটাতে পারছে না এনডিএ জোট। ৬ এবং ১১ নভেম্বর দু-দফায় ভোট হবে, ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর।
বিজেপির বিড়ম্বনা হল, কেন্দ্রে সরকার বাঁচাতে নীতীশ কুমারকে তুষ্ট রাখতেই হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় নীতীশ কুমারের জনপ্রিয়তার পারদ অনেকখানি নেমেছে। এই সুযোগে বিজেপি সরকার গড়ার চাবিকাঠি হাতে নিতে মরিয়া। কিন্তু কেন্দ্রে সরকার চালানোর বাধ্যবাধকতার দিকটাও বিজেপির কপালে ভাঁজ বাড়াচ্ছে। কেন্দ্র থেকে নীতীশ সরে গেলে মোদির গদি টলমল করবে। তাই গেরুয়া শিবির এমন ফর্মূলায় বিহারের আসন সমঝোতা করতে চাইছে, যাতে সাপও না মরে, লাঠিও না ভাঙে। শাঁখের করাতে থাকলেও বিজেপি এমন ভান করছে যেন, তারা ভাঙলেও সহজে মচকাবে না।
নীতীশও বিজেপির উইক পয়েন্ট জানেন যে, কেন্দ্রে তার সমর্থনেই টিকে আছে এনডিএ সরকার। তাই নীতীশও সহজে হার মানতে চাইছেন না। নিজের জিদে অনড় থাকছেন। কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে নীতীশ আগেভাগেই বলে রেখেছেন, বিহারে এবার সবাই সমান, কোন শরিক দলই ছোট বা বড় নয়। সর্বশেষ ২০২০-র ভোটের নিরিখে বিজেপির থেকে নীতীশের জেডিইউ ছোট দল হলেও প্রাথমিক বৈঠকে স্থির হয়েছে ২১০ আসনে বিজেপি এবং জেডিইউ লড়বে। নীতীশ এখন বিজেপিকে শায়েস্তা করতে চিরাগ পাসোয়ান, জিতনরাম মাঝিদেরকে নিয়ে জোটের ভিতর থেকেও ঘোঁট পাকাচ্ছেন। তারাও মওকা বুঝে বিজেপিকে চোখ পাকাচ্ছে, অওকাতের থেকে বেশি আসন চাইছে।
প্রয়াত রামবিলাসের পুত্র চিরাগকে দিয়ে নীতীশ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। চিরাগের এলজেপি ৪৫টি সম্ভাবনাময় আসন চেয়েছে। কিন্তু বিজেপি ২০-২৫ টার বেশি দিতে রাজি নয়। এতে নাখোশ চিরাগের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গিয়েছে, ৪৫ আসন না পেলে এনডিএ ছেড়ে ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোর বা পিকে-র সঙ্গে জোট করতে পারে এলজেপি। আবার ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ছাড়ছে না হ্যাম পার্টির একমাত্র সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতনরাম মাঝি, উপেন্দ্র কুশওয়া প্রমুখ। তাঁদের দাবি ১৫-২০টি করে আসন। যদিও এই দুই ক্ষুদ্র দলকে বিজেপি ৫ থেকে ৮টির বেশি দিতে নারাজ। প্রত্যাশা পূরণ না হলে এরাও সম্ভবত চিরাগের পথেই হাঁটবে। সেটা হলে ত্রিমুখী লড়াই হবে বিহারে। আর ভোট ভাগাভাগির খেলায় কোন জোট কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা এখনই বলা মুশকিল। তবে এতে প্লাস পয়েন্ট হবে কংগ্রেস-আরজেডি-বাম মহাজোটের।
সূত্রের খবর, বিহারে মোট ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০৫টি আসন নাকি নীতীশের দল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। বাকি ৩৮টি আসন ভাগ হবে এলজেপি, এইচএএম ও আরএলএমের মধ্যে। কিন্তু এই ফর্মূলায় দড়ি টানাটানি বিস্তর চলছে। অল্পে কেউ তুষ্ট নয়। পাশাপাশি ভোটের মুখে কৌটিল্য ও চানক্যের লড়াই তুঙ্গে। সব মিলিয়ে গেরুয়া শিবির খুব একটা স্বস্তিতে নেই।
২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে বিহারে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি ৭৪টি। জেডিইউ পেয়েছিল ৪৩টি। প্রথমে লালুর আরজেডি-র সঙ্গে জোট সরকার গড়লেও মাঝপথে হারিকেন ছেড়ে পদ্মাসনে বসেন নীতীশ। জোটের স্বার্থে নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপি। এবারও নীতীশ চাইছেন, তাঁকেই ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোজেক্ট করে লড়তে হবে ভোটযুদ্ধ। কিন্তু নীতীশের ফেস কিছুটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় বিজেপি এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।








