৯ লক্ষ গ্রাহক কমেছে ইপিএফ-এর, চুপসে গেল কেন্দ্রের কর্মসংস্থানের বেলুন
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লী:
খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যানেই জানা গিয়েছে, মাত্র দু-বছরের মধ্যে দেশে প্রায় ৯ লক্ষ ইপিএফ গ্রাহক কমেছে। অথচ লাগামছাড়া বেকারত্বের অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কর্মসংস্থানের মিথ্যা ফুলঝুরি ছোটাচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক বা কেন্দ্র সরকার। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে বছরে দুই কোটি চাকরি দেবেন। কিন্তু গত ১১ বছরের পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ অন্য রকম ছবি। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পাকাপাকি নিয়োগের বহর ইন্টার্ন এবং সেনাবাহিনীতে চলছে সিভিক অগ্নিবীর নিয়োগ।
উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই মূলত ইপিএফের মাধ্যমে অবসরের পর সামাজিক সুরক্ষা পেয়ে থাকেন। তাই সার্বিকভাবে ইপিএফ গ্রাহকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এটা স্পষ্ট যে, বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্রমশ কাজের সুযোগ কমছে বা সংকুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থান। বাধ্যতামূলক স্বেচ্ছা অবসর বা ছাঁটাই হচ্ছে দেদার। স্বভাবতই খোদ কেন্দ্র সরকারের এই পরিসংখ্যানে চাপে পড়ে গিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ২০২২-২৩ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সারা দেশে ইপিএফ গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫২১।
কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) সেপ্টেম্বর-২০২৫-এর পে-রোল সংক্রান্ত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সারা দেশে মোট ইপিএফ সদস্য সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৮৯। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে হয়ে্ছে ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৪। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এই সংখ্যা আরো কমে হয়েছে ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৬৮।
অন্যদিকে একইসঙ্গে ইপিএফ এর আওতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদস্য সংখ্যাও উক্ত তিনটি অর্থবর্ষে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২-২৩ সালে ১ কোটি ৩৩ লক্ষ, ২০২৩-২৪ সালে ১ কোটি ৪৯ লক্ষ এবং ২০২৪-২৫ সালে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ইপিএফ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁরা চাকরি খুইয়েছেন, নাকি স্বেচ্ছায় ইপিএফ ছেড়েছেন — তা স্পষ্ট নয়। তবে নেপথ্য কারণ যাই হোক, এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে কেন্দ্র সরকারের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর বা বিড়ম্বনাকর।








