বক্রেশ্বর নদীতে ডুবে মৃত্যু, সেতুর অভাবে ক্ষোভ গ্রামবাসীর
খান সাহিল মাজহার, নতুন পয়গাম, বীরভূম:
বীরভূম জেলার সদাইপুর থানার ছরিয়া মহম্মদপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। রবিবার সকালে গরু চরাতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন শেখ রকিব (৬৫)। বাড়ি সদাইপুর থানার অন্তর্গত ছরিয়া মহম্মদপুর গ্রামে। সারাদিন ও রাতভর খোঁজাখুঁজি চললেও তাঁর হদিস মেলেনি। অবশেষে সোমবার সকালে বক্রেশ্বর নদীর ধারে ভেসে ওঠে তাঁর নিথর দেহ।
ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবারও তিনি গরু চরাতে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে সারারাত ধরে নদী তীর, ঘাট ও আশপাশে তল্লাশি চালানো হয়। সোমবার সকালে নদীর ধারেই এক দেহ ভেসে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা শনাক্ত করেন শেখ রকিবের মরদেহ। খবর পেয়ে সদাইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
প্রাথমিক অনুমান, নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় স্রোতে ভেসে যান রকিব। তবে এই মৃত্যুকে “সম্পূর্ণ প্রশাসনিক অবহেলার ফল” বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ছরিয়া মহম্মদপুর থেকে চিনপাই যাওয়ার একমাত্র পথ এই নদী পেরিয়েই যেতে হয়। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও সেখানে কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। বর্ষাকালে নদীর জল বেড়ে গেলে গ্রামবাসীরা প্রাণ হাতে নিয়ে পারাপার করেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই নদী ফুলে ওঠে। তখন পার হতে গেলে প্রাণ হাতে নিতে হয়। যদি একটা সেতু থাকত, তাহলে রকিবদা আজ বেঁচে যেতেন।” বহুবার পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের অনুরোধে সদাইপুর থানার পুলিশ নীল নির্জন ড্যামের গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে নদীর জলস্তর কমায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় শেখ রকিবের দেহ।
এই ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। কান্নায় ভেসেছে ছরিয়া মহম্মদপুর গ্রাম। একই সঙ্গে গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে দাবি তুলেছেন, দ্রুত বক্রেশ্বর নদীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে হবে, যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।
বক্রেশ্বর নদীর এই করুণ ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—অবহেলিত গ্রামাঞ্চলে পরিকাঠামোর অভাব আজও কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে।








