ছন্দে ফিরছে পাহাড়, খুলল টাইগার হিল-সান্দাকফু
নতুন পয়গাম, দার্জিলিং, ৬ অক্টোবর:
প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েও দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তরবঙ্গ। পাহাড়ে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল, সান্দাকফু, রক গার্ডেন ভ্রমণে জিটিএ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও সোমবার থেকে পুনরায় সবই খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে পর্যটকরা ফের দার্জিলিংমুখী হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছে প্রশাসন।
তবে রাস্তাঘাটে ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক জায়গায় এখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ, উদ্ধারকাজ এবং সড়ক মেরামতের কাজ চালু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬। জলে ভেসে গিয়ে এখনও নিখোঁজ অনেকে। সুতরাং মৃতের সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সোমবার উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে অসহায় বন্যাদুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনকে দ্রুত গতিতে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিহতের পরিবারগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের থেকে একজন করে হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন মূল সমস্যা হয়েছে উড়ান এবং সিকিম ও দার্জিলিং থেকে ফেরার গাড়ি ভাড়া নিয়ে। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া পর্যটকদের অভিযোগ, গ্যাংটক অথবা দার্জিলিং থেকে ফেরার জন্য গাড়ি ভাড়া তিন-চারগুণ বাড়িয়ে ১০-১২ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, সোমবার বাগডোগরা থেকে কলকাতাগামী বিমানের ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। বিপর্যয়ের সময় কেন এমন অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তার উত্তর মেলেনি কোথাও থেকে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, হোটেল রিসর্টে আটকে থাকা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জ্যন কেউ যেন টাকা না চান, এই টাকা দেবে রাজ্য সরকার।
এদিকে ট্রাভেল এজেন্সি বা ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সোমবারও প্রচুর সংখ্যক পর্যটক দার্জিলিং ও কালিম্পং এসেছেন। আতঙ্কের পরিবেশ অনেকখানি কেটে গিয়েছে। বন্যার ভ্রুকুটিও আর নেই। নতুন করে কোথাও ধস নামেনি। তবুও অনেকেই ভ্রমণ সূচি কাটছাঁট করে সমতলে চলে যাচ্ছেন। কারণ, সব রাস্তা খুলে গিয়েছে। টাইগার হিল, সান্দাকফুতে সোমবারও পর্যটকদের ভিড় নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বন্যার রেশ কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সমগ্র উত্তরবঙ্গ।








