বন্যায় ভাসছে চা বাগান ক্ষতির খতিয়ান ১০০ কোটিরও বেশি কার্নিভাল শেষে উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী
নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
প্রবল বর্ষণে বানভাসি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়ে কৃষিজ ফসল এবং বিশেষ করে চা বাগানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান কয়েকশো কোটি টাকা। কোথাও একহাঁটু জলে ডুবে গিয়েছে চা বাগান। কোথাও-বা বন্যার জলের তোড়ে শিকড় থেকে উপড়ে গিয়েছে চা-গাছ। চারিদিকে কেবল জল আর জল। কোথাও ডাঙা দেখা যাচ্ছে না। রবিবার রাতে পাহাড়-সমতলে অতি বর্ষণের জেরে কার্যত হড়পা বানের ধাক্কায় উত্তরবঙ্গের গর্ব চা-শিল্প বিরাট বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন চা কারখানায় ঢুকে গিয়েছে জল। ফলে নষ্ট হয়েছে কয়েক লক্ষ কেজি তৈরি চা পাতা। স্বভাবতই মাথায় হাত চা বাগান ও চা কারখানার মালিকদের।
এছাড়াও প্রবল বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে চা বাগানের রাস্তা, কালভার্ট, শ্রমিকদের থাকার আবাসনও। সার্বিকভাবে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে শুধু উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পেই ক্ষতি হয়েছে অন্তত ১০০ কোটি টাকা। তাই চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে চা কারখানা বা চা শিল্পের মালিকরা এখন সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রবিবার কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল শেষ করে আজ সোমবার উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীর জল হু হু করে ঢুকে পড়েছে চা বাগানগুলোতে। ফলে সম্পূর্ণ চা বাগান এখন জলের তলায়। চ্যাংমারি চা বাগানের কারখানায় জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সিটিসি এবং গ্রিন-টি। ডুয়ার্সের গেন্দাপাড়া, গাটিয়া, গুডহোপ, জিটি, আইভিল, আনন্দপুর, বানারহাট, নাগরাকাটার মতো অন্তত ৫০টি বড় চা বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই মিলিয়ে উত্তরে ২৭৬টি বড় চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ে চা বাগানের সংখ্যা ৮২টি। পাহাড়ের অন্তত ১০টি চা বাগান ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে। তরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টা চা বাগান। ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের সুভাষীনি চা বাগানের ১০০ একর এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। একই অবস্থা কালচিনি, বীচ, সাতালি চা বাগানেও। ১৯৬৮ সালের বন্যার পর জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার চা শিল্পে এত বড় ক্ষতি হয়নি। যা টাকার অংকে অন্তত একশো কোটি বা তারও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান।








