কালিয়াচকের গর্ব সাহেনা খাতুন
সুমা পারভীন, নতুন পয়গাম, মালদা:
গ্রামীণ বাংলার শিক্ষার মানচিত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কালিয়াচকের শেরশাহী রন্নুচক গ্রামের মেধাবী কন্যা সাহেনা খাতুন। সীমিত আয়ের পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি AIIMS-এর নার্সিং অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা (NORCET-9)-এ সাফল্য অর্জন করে গোটা মালদা জেলাকে গর্বিত করেছেন।
সাহেনার বাবা সাজ্জাদ মোমিন একজন ক্ষুদ্র ফেরিওয়ালা, মা সেলিনা খাতুন ঘরে বসে মশারী সেলাই করেন। অভাবের সংসারে শিক্ষার খরচ চালানো ছিল এক কঠিন সংগ্রাম, তবুও মেয়ের স্বপ্ন পূরণে কখনও হার মানেননি তাঁরা। সাহেনা আল আমিন মিশনের প্রাক্তনী এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে বিএসসি নার্সিং সম্পন্ন করেন। তারপর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি NORCET-9 পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছান।
নিজের সাফল্য সম্পর্কে সাহেনা বলেন, “গ্রামের মেয়েদের সুযোগ কম হলেও, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। আমি চাই, আমার এলাকার মেয়েরাও শিক্ষায় ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাক।”
তাঁর মা সেলিনা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে শুধু আমাদের নয়, পুরো গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে।” বাবা সাজ্জাদের কথায়, “অভাব ছিল, কিন্তু আশা ছিল বেশি। সাহেনা আমাদের গর্ব।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, সাহেনার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং কালিয়াচকের মেয়েদের শিক্ষার জাগরণের প্রতীক। একসময় যেখানে মাধ্যমিকের পর মেয়েদের পড়াশোনা থেমে যেত, আজ তারা এগিয়ে আসছে নার্সিং, মেডিকেল, আইন ও গবেষণার জগতে।
গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে সাহেনা খাতুন আজ এক অনুপ্রেরণা—যিনি দেখিয়ে দিলেন, স্বপ্ন দেখার সাহসই সাফল্যের প্রথম ধাপ।








