কেরোসিনে জিএসটি কমেনি গরিব মানুষের হেঁশেলে আগুন
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে নতুন জিএসটি লাগু হয়েছে। পুজোর মুখে একে রীতিমতো ‘জিএসটি উৎসব’ আখ্যা দিয়ে বহু জিনিসপত্রের দাম কমানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। চার ধাপে জিএসটি তুলে দিয়ে তিন ধাপে নতুন হার চালু করে সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক সাশ্রয়ের কৃতিত্ব দাবি করেছে মোদি সরকার। সেই মতো বেশ কিছু পণ্য থেকে জিএসটি পুরোপুরি তুলেও নেওয়া হয়েছে। আবার অনেক আইটেমে নতুন করে বর্ধিত হারে জিএসটি চেপেছে। ফলে কিছু জিনিসের দাম কমেছে, আবার অনেক কিছুর দাম বেড়েছে।
কিন্তু দেশের বহু সংখ্যক গরিব মানুষ এখনও রান্নার কাজে খড়-কুটো এবং কেরোসিন ব্যবহার করে। সেখানে রান্নার গ্যাস এখনও পৌঁছয়নি বা সহজলভ্য নয়। তার থেকেও বড় কথা হল, গরিব মানুষদের গ্যাসে রান্না করার মতো আর্থিক সংগতি নেই। তাই তারা রান্নার পাশাপাশি ঘরে আলো জ্বালাতে এখনও হ্যারিকেন, লণ্ঠন ইত্যাদি ব্যবহার করেন। যেগুলো কেরোসিন তেলে জ্বলে। আর সেই কেরোসিনের উপর থেকে জিএসটি কমানো হয়নি, আগের মতোই রয়ে গিয়েছে ৫ শতাংশ জিএসটি হার। খোলা বাজার ছাড়া রেশনে কেরোসিন কিনলেও ৫ শতাংশ জিএসটি দিতে হত, তাও পরিবর্তন করা হয়নি। যদিও রেশনের চাল-গম-চিনি-আটা ইত্যাদির ওপর জিএসটি নেই। কিন্তু কেরোসিনের উপর জিএসটি প্রথম থেকেই ছিল, এখনও আছে একই হারে।
উল্লেখ্য, পেট্রো পণ্যের মধ্যে একমাত্র কেরোসিনের ওপর জিএসটি নেওয়া হয়। বাকি সব পেট্রোপণ্যের উপর রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিক্রয় কর এবং সেস আছে। কেরোসিনের ওপর যে ৫ শতাংশ জিএসটি আছে, তা তুলে নিলে গরির মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতেন। কিন্তু তা আপাতত হয়নি। বরং চলতি অক্টোবর থেকে কেরোসিনের দাম লিটার পিছু ১ টাকা ৬০ পয়সা করে বেড়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মিলিয়ে দু-মাসে লিটারে প্রায় ২ টাকা দাম বাড়ল রেশনের কেরোসিনের।
উল্লেখ্য, এখন দেশের ১৬টি রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে কেরোসিনের বরাদ্দ নেয়। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরোসিনে জিএসটি না কমানোয় স্বভাবতই এ রাজ্যের গরিব মানুষরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।








