বর্ষার শেষে ডেঙ্গির থাবা মালদায়, উদ্বেগে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর
গোলাম আহম্মেদ চিশতী, নতুন পয়গাম, মালদা:
বর্ষা এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, আর সেই সুযোগেই মালদা জেলায় ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গি। গত এক সপ্তাহে জেলার ১৫টি ব্লক ও দুটি পুরসভা এলাকায় নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন। ফলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মালদায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭২০। যদিও আশার কথা, এঁদের প্রায় সকলেই এখন সুস্থ। কিন্তু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস মিলিয়ে নতুন করে ৪৯ জনের আক্রান্ত হওয়া স্বাস্থ্য দপ্তরকে নতুন করে সতর্ক করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইংরেজবাজার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আন্ধারুপাড়া এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গভর্নমেন্ট কলোনির দুই বাসিন্দা রয়েছেন। ইংরেজবাজারের গ্রামীণ অঞ্চল থেকেও ১২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলাগুলির তালিকায় বর্তমানে রাজ্যের মধ্যে মালদার অবস্থান পঞ্চম।
২০১৯ সালে মালদায় ডেঙ্গি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সে বছর জেলার প্রতিটি হাসপাতাল, বিশেষত মালদা মেডিকেল কলেজ, রোগীতে উপচে পড়েছিল। মৃত্যুমিছিলের সাক্ষী হয়েছিল জেলা। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই প্রতি বছর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে ডেঙ্গির প্রকোপ কিছুটা কমলেও, বর্ষার সময় এলেই চিন্তা ফিরে আসে।
ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ন চৌধুরী বলেন,
“গতবছরও কিছুটা ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছিল, তবে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আমরা বর্ষার আগেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহায়তায় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নজরদারি চলছে। আমাদের ৩০ জন হাউস সুপারভাইজার এবং ১৬৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। জমে থাকা জল নিষ্কাশনে জোর দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকদের সচেতন করার কাজও চলছে।”
অন্যদিকে, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি জানান,
“ডেঙ্গি প্রতিরোধে আমরা সারাবছর কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পুজোর মধ্যেও আমাদের টিম মাঠে ছিল। প্রতিটি প্যান্ডেলে সচেতনতামূলক প্রচার হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে জেলার বিভিন্ন জলাশয়ে এবার প্রায় ১৫ লক্ষ গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়েছে। নিয়মিতভাবে কিটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার চিকিৎসা চলছে।”
এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পরবর্তী সময়টা ডেঙ্গি ছড়ানোর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। স্বাস্থ্য দপ্তরের তৎপরতা ও নাগরিক সহযোগিতাই পারে মালদাকে এই রোগের থাবা থেকে রক্ষা করতে।
সব মিলিয়ে, পুজোর রঙিন আলোয় ভাসলেও মালদার আকাশে ডেঙ্গির ছায়া এখনও ঘন। প্রশাসন বলছে — সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।







