ট্রাম্প-ট্যাক্স এবার ওষুধে ১০০ শতাংশ
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন,
একদিকে বলছেন ‘বন্ধু’, আবার অন্যদিকে পিঠে ছুরি বসাতেও কসুর করছেন না। তাই সপ্তাহ দুয়েক আগে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেছিলেন, এমন অদ্ভূত প্রেসিডেন্ট আগে কখনো দেখিনি। ভারতীয় পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পর এবার ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্পের আমেরিকা। জানা গিয়েছে, ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক লাগবে বলে মার্কিন সরকারের অর্ডারে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বাণিজ্য খাতে আবার আঘাত আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউরোপের দেশগুলোকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ কর চাপানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তারা টালবাহানা বা গড়িমসি করলে এবার নিজেই ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ ট্যাক্স বসালেন।
এই চড়া শুল্ক এড়ানোর একটাই পথ হল আমেরিকার কারখানায় উৎপাদন করতে হবে। বিদেশে তৈরি সমগ্রী মার্কিন মুলুকে রফতানি করলে তার ওপর শুল্ক চাপবে। ভারত এবং ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশের ওপর বিভিন্ন রকম শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্পের আমেরিকা। তবে ওষুধের ওপর ট্রাম্প-ট্যাক্স এর প্রভাব নিয়ে ভারতীয় বাণিজ্য এতটাই অনিশ্চয়তা ও সংশয়ে পড়েছে যে, শুক্রবার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বহু নামজাদা ওষুধ কোম্পানির শেয়ারে ধস নামে। গোটা বিশ্ব ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত। এই শুল্ক-যুদ্ধের শেষ কোথায়? কেউ জানে না। হয়ত ট্রাম্প যতদিন থাকবেন, অর্থাৎ আরো তিন বছর এই যুদ্ধ চলবে।
ভারতীয় ওষুধ শিল্পে শুক্রবার প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত খুঁটিনাটি নিয়ে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ওই শুল্কের আঘাত যদি শুধুমাত্র ব্র্যান্ড সংবলিত ও পেটেন্ট প্রাপ্ত ওষুধের ক্ষেত্রেই হয়, তাহলে জেনেরিক ওষুধে ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেটা সত্যি হলে ভারত রপ্তানি বাণিজ্যে আলো দেখতে পাচ্ছে। কারণ আমেরিকায় সবথেকে বেশি জেনেরিক ওষুধ সাপ্লাই দেয় ভারত, ৪০ শতাংশ। গড়ে বছরে ১০-১১ হাজার কোটি ডলার। অন্যান্য ওষুধ দেয় ৩০ শতাংশের মতো।
হাইলাইট
বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, মার্কিন মুলুকে রপ্তানি বাণিজ্যের বিপুল লোকসান ঠেকাতে ভারতের অভ্যন্তরেই আবার ওষুধ কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে শুরু করবে না তো? এই চিন্তা অমূলক নয়। কারণ, পিএম কেয়ার্স ফান্ড এবং ইলেক্টারাল বন্ডে কেন্দ্র বা বিজেপি ওষুধ কোম্পানিগুলোর থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ায় গত কয়েক বছরে ওষুধের দাম লাগামছাড়া হারে বেড়েই চলেছে।








