মাছ চাষের জলাভূমির জন্য অনলাইন নিলাম সংশোধনী ম্যানুয়ালে রাজ্য মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ৩ অক্টোবর:
এবার থেকে মাছ চাষের জলাভূমির জন্য নিলামের পাশাপাশি অনলাইনে ই-অকশান করবে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর। জানা গিয়েছে, পাঁচ একরের বেশি সরকারি বা খাস জলাভূমি মাছ চাষের জন্য এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের ভূমি ও ভূমি সংস্কার ম্যানুয়াল সংশোধনের জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছে। পাঁচ একরের বেশি আয়তনের খাস জলাশয় সম্পর্কিত এই ছাড়পত্রের জেরে পশ্চিমবঙ্গে মৎস্য চাষে ব্যাপক উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী নবান্ন তথা রাজ্য প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
কারণ, এর ফলে রাজ্যে মৎস্য চাষ বা মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে ‘কমিটি অব মিনিস্টার্স’ গড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উক্ত কমিটির তরফে জমা দেওয়া প্রস্তাব, পরামর্শ বা সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়ালে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
এতকাল পাঁচ একরের কম জলাভূমিতে যেখানে মাছ চাষ হত, তা পঞ্চায়েত দপ্তর বা জেলায় জেলায় থাকা ত্রিস্তর পঞ্চায়েত পরিকাঠামো ব্যবস্থার অধীনে নির্ধারণ হত। আর পাঁচ একরের বেশি পরিমাণ জলাশয়ের পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিল ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। অর্থাৎ এবার থেকে এই নিয়মের সংশোধনী কার্যকর হবে কেবলমাত্র পাঁচ একরের বেশি জলাভূমির মাছ চাষের ক্ষেত্রেই। যার টেন্ডার বা দরপত্র ডাকার দায়িত্ব থাকে মূলত জেলাশাসকের নেতৃত্বে কমিটির উপরে, যে কমিটিতে জেলাশাসক, জেলা ভূমি দপ্তরের আধিকারিক, এসডিও বা মহকুমা শাসক এবং মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক থাকতেন।
নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এবার থেকে কমিটিতে থাকবেন ক্ষুদ্র সেচ দপ্তরের তরফে একজন আধিকারিক। তাছাড়া এবার নিলামের পাশাপাশি অনলাইনে অকশান ব্যবস্থাও চালু হবে। এর জন্য একটি আলাদা পোর্টালও তৈরি করা হবে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মৎস্য দপ্তরকে। এই ই-সিস্টেম চালু হলে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
সূত্রের খবর, জলাভূমি লিজের অংক বছরে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে, তার টেন্ডার বা অকশান করবে জেলা কমিটি। এর আগে এই অংক ছিল ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তার বেশি হলে সিদ্ধান্ত নিত রাজ্য মৎস্য দফতর।








