দাও ফিরে লজ্জার আবরণ, লও এ বেহায়াপনা
সেরিনা বেগম
লজ্জা সম্ভ্রমতার আর এক নাম। লজ্জা মানুষকে নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলে নতুন এক জীবন। যে জীবন জাতির জন্য এক সোনালি ভোরের স্বপ্ন দেখাতে পারে। এই লজ্জাবোধ মানুষকে সৎকর্মশীল করে তোলে। যে সম্প্রদায়ের মধ্যে নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা প্রকট হয়, সেই সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব বা শাস্তি নিপতিত হয়। হযরত আলী (রা) বলেন, “লজ্জা যাবতীয় সৌন্দর্য্যের মূল।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।” (বুখারী)।
লজ্জাকে ঈমানের প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্ত অশ্লীলতা থেকে লজ্জা বাঁচতে শেখায়। আধুনিকতা এর বিপরীত ইঙ্গিত বহন করে। নারী-পুরুষরা লজ্জা হারিয়ে অভিনয়ের নামে ইচ্ছামত একে অপরের অঙ্গ স্পর্শ করে। নারীরা আবার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় লজ্জা হারিয়ে শরীর নিলামে তোলে। পুরুষরা স্বল্প বসনে দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শনী করে। এই নির্লজ্জতার নতুন সংজ্ঞা ‘সাহসী’। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখে এগুলি নষ্টামি।
আদি পিতা-মাতা হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) যখন নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করেছিলেন, তখন তাদের লজ্জার পোশাক স্খলন হয়। প্রভু তাদের বেহেশত থেকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। প্রভু তাদের লজ্জার পোশাক প্রদান করেন। এই লজ্জার পোশাক তাদের নৈতিকতাবোধকে বলিষ্ঠ করে তোলে।
লজ্জাবোধের জন্য মেয়েরা বোরকা, হিযাব, জিলবাব ইত্যাদি ব্যবহার করে। আর এটা সতীত্ব রক্ষার একটি লজ্জার পোশাক। এই পোশাকের আবরণে নারী-পুরুষ একে অপরের কাছে সতীত্বের চাবিকাঠি পেয়ে যায়। চৌদ্দশ বছর আগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই লজ্জার আবরণ পরাতে শিখিয়েছেন।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্দানশীন নারীদের থেকেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। কারও কোনো কথা তাঁর অপছন্দ হলে (লজ্জাবশত তিনি মুখে কিছু বলতেন না) তাঁর চেহারায় প্রতিভাত হত। (আবু খুদরি রা:)।
লজ্জা অন্তরাত্মার উপদেশ স্বরূপ। লজ্জা সোনা অপেক্ষা অধিক আকর্ষণীয়। যার লজ্জা গেল, তার মান-সম্ভ্রমতাও হারিয়ে গেল। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত, “তোমরা প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে, অশ্লীল কাজ ও কথার নিকটে যেও না..।” (সূরা আনআম: ১৫১)।
অন্তরের লজ্জাহীনতাও মানুষকে ধীরে ধীরে নিয়ে যায় বিপদের সম্মুখে। তাই অন্তরকে কলুষমুক্ত করে লজ্জার আবরণে ঢাকতে বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে বণী আদম! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং তাকওয়ার পরিচ্ছদ, এটিই সর্বোৎকৃষ্ট।” (সূরা আরাফ: ২৬)।
লজ্জাহীনতার জন্য নারীদের সম্মানহানি, কন্যা সন্তান হত্যা, বধূ নির্যাতন ইত্যাদি জাহেলিয়াতের যুগ আবার ফিরে এসেছে। লজ্জাহীনতার জন্য সারা বিশ্বে অনৈতিকতার কালো ছায়া নেমে এসেছে। মানুষের নৈতিকতার চরম সঙ্কট ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। তাই সময়ের দাবি হল, দাও ফিরে সে লজ্জার আবরণ, লও এ বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা।




