গাজায় শান্তি পরিকল্পনার নামে জুমলা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু আদৌ সমঝোতা হয়নি?
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন, ৩০ সেপ্টেম্বর:
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সোমবার হোয়াইট হাউজে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলে এখনো জিম্মি থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদদের মুক্তি নিশ্চিত করতে নতুন করে ‘২০ দফা পরিকল্পনা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আর আমি অনেক জরুরি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। এর মধ্যে আছে ইরান, বাণিজ্য, আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা গাজা যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
নেতানিয়াহু ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য নেতাদের পাশাপাশি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের যত বন্ধু ও সহযোগী দেশ আছে, তাদের সঙ্গে পরামর্শের পর আমি আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির মূলনীতি প্রকাশ করছি। এটা মানুষ সত্যিই পছন্দ করেছে।’ ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্রেটিক নেতৃত্ব গাজা পরিচালনা করবে। তারা গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলাবে। তবে সেই নেতৃত্বকে বেছে নেওয়ার কাজটা ফিলিস্তিনের জনগণ করতে পারবে না। বরং একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজটি করবে।
তিনি দাবি করেন, পরিকল্পনার আওতায় আরব ও মুসলিম দেশগুলো অঙ্গীকার করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লিখিতভাবে বলেছে যে, গাজাকে দ্রুত অস্ত্র-মুক্ত করতে হবে। হামাস ও অন্য সব সন্ত্রাসী সংগঠনের সামরিক সক্ষমতা অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ট্রাম্প এও দাবি করেন, ‘হামাসের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য আমরা আরব বিশ্বের ওপর নির্ভর করছি। আর আমি শুনছি যে হামাসও তা করতে চাচ্ছে। এটা ভাল খবর।’
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়, ‘বোর্ড অব পিস’ নামে সংস্থাটি শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ তদারক করবে। ট্রাম্প বলেন, চুক্তির সাফল্য নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেতাদের একত্র করার দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটি। আর ট্রাম্প নিজেই সেই তদারক কর্তৃপক্ষের প্রধান কর্মকর্তা হবেন। ট্রাম্প বলেন, এটাই আমি চাই। কিছু অতিরিক্ত কাজকর্ম করতে হবে। তবে এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে আমি তা করতে রাজি।’
ট্রাম্পের কথায়, ‘ওই সংস্থায় অন্য নেতারাও থাকবেন। আমাদের একটি বোর্ড থাকবে। তাতে থাকবেন খুবই ভাল মানুষ প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কেউ থাকবে না, তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না।’ ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা ‘আইএসএফ’ নামে একটি বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। গাজার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আমেরিকা, আরব ও অন্য সহযোগী দেশগুলো মিলে এই যৌথবাহিনী গঠন করবে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইল ও মিসরের সঙ্গে কাজ করবে আইএসএফ। পাশাপাশি নতুন প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করবে তারা।
কিন্তু যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু অন্যরকম ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সীমারেখা গড়ে তোলা-সহ গাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে ইসরাইল থেকে যাবে। গাজায় একটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক প্রশাসন থাকবে, যার পরিচালনার ভার হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর থাকবে না। যারা ইসরায়েলের সঙ্গে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তারাই কেবল এই প্রশাসন পরিচালনা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই পুরো বিষয়টিকে জুমলা বা ধাপ্পা বলেই মনে হচ্ছে। আসলে ছলে বলে কৌশলে গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি ইসরাইলের হাতে তুলে দেওয়ারই সাজিশ চলছে। এতে আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পাশে থাকছে।








