ইসরাইলি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গাজা অভিমুখে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা, রাত পেরোলেই নোঙর করবে ৪৪ দেশের ত্রাণবাহী ৫০ নৌবহর
নতুন পয়গাম, রামাল্লা, ১ অক্টোবর:
ইসরাইলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। সূত্রের খবর, বিশ্ববন্দিত জার্মান পরিবেশপ্রেমী তথা জলবায়ু আন্দোলনকর্মী তরুণী গ্রেটা থুনবার্গ-এর উদ্যোগে এই নৌবহর ইসরাইলের ঘোষিত ‘বিপৎসীমায়’ প্রবেশ করেছে, যা গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। আজ বুধবার ১ অক্টোবর সকালে ফ্লোটিলার কর্মীরা এই তথ্য জানিয়ে বলেন, তাদের নৌবহরে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০টি জাহাজ বা ইঞ্জিন চালিত কার্গোনৌকা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি পর্যবেক্ষণ ও আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য। বাকীগুলো ত্রাণবাহী। মোট স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন।
বহুজাতিক এই সমুদ্র অভিযানে বিভিন্ন দেশের মানবসেবা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও প্রতিনিধিরা রয়েছেন। গ্রেটা থুনবার্গ ছাড়াও টিমে রয়েছেন বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাংসদ, আইনজীবী, পরিবেশকর্মী, মানবতাবাদী শান্তিকামী, সমাজসেবক, চিকিৎসক, অভিনয় সংস্কৃতি ও ক্রীড়া জগতের সেলিব্রিটি-সহ নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি নকোসি জোয়েলিভিলে ম্যান্ডেলা প্রমুখ সমাজের সব স্তরের নামকরা লোকজন।
এদিকে গাজামুখী ফ্লোটিলাকে যে কোন ভাবে হামলা চালিয়ে থামানোর অঙ্গীকার করেছে ইসরাইল। সেই লক্ষ্যে তারা কয়েকদফা ছোটখাট হামলাও চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, নৌবহর ‘বৈধ নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে।’ তাই ইসরায়েলি নৌবাহিনী এই গাজা অভিমুখে এগিয়ে চলা ত্রাণবাহী নৌবহরকে জোরপূর্বক আটক করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ফ্লোটিলাকে গাজা উপকূলে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। কিন্তু জবাবে ফ্লোটিলা কর্মীরা ইসরায়েলের সব হুমকি উপেক্ষা করে গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে।
সূত্রের খবর, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহরকে আটক করার লক্ষ্যে ইসরাইল সরকার আশদোদ বন্দরে প্রায় ৬০০ পুলিশ ও নৌসেনা কর্তাকে মোতায়েন করেছে। ইসরাইল এও জানিয়েছে, যদি তারা গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চান, তবে তারা আশদোদ বন্দরে নোঙর করে সবকিছু খালাস করে ফিরে যাক। সেইসব ত্রাণসামগ্রী ইসরাইল গাজায় পৌঁছে দেবে। তবে ফ্লোটিলাবাহিনী এই প্রস্তাবে রাজি হননি।
৪৪ টি দেশের প্রায় ৫০০ দুঃসাহসী মানবপ্রেমী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক দিন ধরে দিন-রাত গভীর সমুদ্রের জলে ভেসে ফিলিস্তিনের অসহায় গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে চলেছে। এভাবে তারা সব রকমের হুমকি, প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কাকে উপেক্ষা করে সারা বিশ্ব এবং বিশেষ করে মুসলিম দুনিয়ার দেশগুলোকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্লোটিলা থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বর্বরতা, নৃশংসতা ও পাশবিকতার দীর্ঘ কাহিনি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলকে অবিলম্বে গাজা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। তারা বলেন, আপনারা গণহত্যা বন্ধ করতে পারছেন না। আমরা মৃত্যুমুখে পতিত মানুষদের সামনে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে চাইছি। বাঁচার অধিকার সব মানুষের আছে। আপনারা এতগুলো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কী করছেন? আমাদের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে জেনেই অসহায় ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে আসছি। মৃত্যুকে পরোয়া করছি না। ইসরাইলের অবরোধ ভাংতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তাঁরা। কাল ০২ অক্টোবর শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য চরম উত্তেজনাকর দিন অপেক্ষা করছে।








