BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান: নেপথ্য কারণ কী?

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭

ড. নূরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ১ অক্টোবর:

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী সরকারের অকস্মাৎ পতন। বস্তুত কোন রাষ্ট্রে বিপ্লব হঠাৎ সংঘটিত হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না। মানুষ যখন দেখে, সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব নয়; তখন তারা জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নামে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে একথা একশো শতাংশ সত্য। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব বিশ্বে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যাকে বলা হয় Arab Spring বা ‘আরব বসন্ত’। তবে সেই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ, সেখানে স্বৈরাচারী শাসকদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা ও ইউরোপ নির্লজ্জভাবে তাদের পাপেটদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। তারা স্বৈরশাসকদের পক্ষাবলম্বন করে। কট্টর স্বৈরশাসকরা ভয়ানক সহিংসতা ও শক্তি প্রয়োগ করে ‘আরব বসন্ত’ দমন করে।

আরও পড়ুন:

এতকাল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ও নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা দেশে দেশে পাপেট সরকার প্রতিষ্ঠা করত। তাদের কথা মতো না চললে সামরিক অভ্যুত্থান অথবা গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করত। এভাবে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম জাহানে দীর্ঘদিন ধরে নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এখনো তাদের পাপেট ইসরাইলকে দিয়ে আরব জগতে ভয়ানক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, দেশে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে চলেছে, তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের লাদাখে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। তবে এদেশে এধরনের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন সফল হবে না। কারণ, এই বহুমাত্রিক দেশে বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন। কোন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সকল ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একক নেতৃত্বের অধীনে রাস্তায় নামবে — এ সম্ভাবনা খুবই কম। লাদাখবাসীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের একাত্ম হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া, লাদাখের বৌদ্ধরা আন্দোলন করছে। মুসলিম বা হিন্দু ধর্ম গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেই। এজন্য এই আন্দোলন সফল হবে না। ক্ষমতাসীন বর্ণ হিন্দু গোষ্ঠী এই খেলায় ওস্তাদ। ‘ভাগ কর, শাসন কর।’ এতদিন তারা কাশ্মীর ভাগের সময় মুসলিম ও বৌদ্ধ খেলা খেলেছিল। এখন শুধু মুদ্রার পিঠ পরিবর্তন করলেই হল।

আরও পড়ুন:

মনে আছে, ব্রিটিশরা তৎকালীন মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের অমুসলিমদের কীভাবে ব্যবহার করেছে? ১৮৫৭ সালে প্রথম সর্বাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন বা মহাবিদ্রোহের সময় সুবিধাভোগী অমুসলিম বা হিন্দু জমিদার, জোতদার শ্রেণির ভূমিকা কেমন ছিল? দয়া করে ঐ সময়ের বাংলার পত্র-পত্রিকাগুলো একবার দেখে নেবেন। যে ফল্টলাইন ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্ভুল হাতিয়ার ছিল। আজ ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সেই হাতিয়ার অব্যর্থ কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, একটি প্রাণবন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ। মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বার্তা বহন করে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আছে। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুত যখন এসব প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষোভ বাঁধন-হারা হয়ে যায়। তখন উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠে। বিপ্লব সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন:

বর্তমান রাষ্ট্র শাসনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদ্বয় আধুনিক বহুমাত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেফটি ভাল্বের মতো কাজ করতে পারে। এগুলো নিছক পরিভাষা নয়। কার্যকর হাতিয়ার। এফেক্টিভ মেকানিজম। কিন্তু এই পরিভাষা যে আদর্শ ও মহানতা ধারণ করে, তা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই। বস্তুত অধিকাংশ দেশে যথার্থ গণতন্ত্রই নেই। যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিমূল ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’। এগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?

আরও পড়ুন:

মানুষ অতীতে বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ নিয়ে অনুশীলন করে হতাশ হয়ে গেছে। এখনো মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে। কখনো বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিভাষা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ এখন জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। এসব পরিভাষা নিয়ে তারা হাসাহাসি করছে। বস্তুত পরিভাষাগুলো এখন নিজস্ব স্পিরিট হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতির মাধ্যমে। তাদের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত ও অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিকারের বিকল্প পথ দেখতে না পেয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ঝুঁকি নেয়। মনে করে, প্রতিকারের একমাত্র পথ রাষ্ট্র বিপ্লব। যেখানে বহু জীবনহানি হয়। বহু সম্পদ ধ্বংস হয়। জীবনের ছন্দ পতন হয়। সর্বনাশ হয়।

আরও পড়ুন:

ভারত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবথেকে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। এখানেও গণঅভ্যুত্থানের প্রবল সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্র এখানেও পণবন্দি। কার্যত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বারোটা বেজে গেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও উল্লেখিত দেশগুলোর মতো ভারত কিন্তু একমাত্রিক দেশ নয়। এখানে খুব সহজে সমগ্র দেশব্যাপী গণআন্দোলন সংঘটিত হবে না। রাষ্ট্র বিপ্লব অত সহজে হবে না। আর যদি দৈবাৎ হয়ে যায়, তাহলে এদেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত যেমন তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে পারেনি, তেমনি এদেশও পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, এদেশে প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি রাজ্যের ভেতর একাধিক স্বতন্ত্র অঞ্চল নিজেদের আঞ্চলিক অস্মিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। যা পুনরায় সংগঠিত ও সুসংহত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন:

বস্তুত ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্ন ধরনের। এদেশে হিন্দু ঐতিহ্য ও জাত-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত। খুব শক্তিশালী। তথাকথিত উচ্চ বর্ণের সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর আধিপত্য নিরঙ্কুশ। এদেশে একমাত্র তাদের অনুশাসন চলে। হাজার হাজার বছর ধরে। এমনকি মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসনামলেও বর্ণ প্রথা অক্ষত ছিল। বর্ণ হিন্দুরা সমাজ শাসন করত। পৃথিবীর সকল দেশে এলিট শ্রেণি আছে। তাদের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। কিন্তু ভারতের এলিট শ্রেণির আধিপত্য ধর্মের মোড়কে সুরক্ষিত। ফলে, বিদেশি ও বিধর্মী শাসনকালে হোক অথবা প্রগতিশীল গণতন্ত্রে — এদেশে বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য ও প্রাধান্য সুরক্ষিত। এজন্য খুব সহজে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। আপাতত মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এদেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উৎসকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শুরু হয় সামাজিক সংগঠনের পথ চলা। শেষার্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক দলের পথ চলা। বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এছাড়াও, এসময় অসংখ্য দল ও সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। এসব দল ও সংগঠন দেশে গণ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের সক্রিয়তার ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারত হিন্দু-প্রধান দেশ। ভারতে ডে ওয়ান থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা। সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বিভেদ, বিভাজনের শিকার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ানক বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্বহীন। কার্যত তারা স্বাধীন দেশে অবদমিত জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশক ধরে তাদের জীবন ও জীবিকাও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে!

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)। বর্ণ হিন্দু পরিচালিত ও প্রভাবিত জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাদের অবদান এদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই দল প্রথম থেকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্ণ হিন্দু নেতৃবৃন্দ তাদের প্রাধান্য কখনো পরিত্যাগ করেনি। তারা ধর্মনিরপেক্ষ অথচ হিন্দু আধিপত্যের প্রবক্তা ছিলেন। এক সময় কংগ্রেসের হিন্দু সদস্যরা নরমপন্থী ও চরমপন্থী উপদলে বিভক্ত ছিলেন। আজকের বিজেপির পূর্বপুরুষ ছিলেন সেকালের কংগ্রেসের চরমপন্থীরা।

আরও পড়ুন:

১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের দুই দশক পরে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্দু আধিপত্য থেকে বাঁচার এক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম পরিচালিত রাজনৈতিক দলের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা মুসলিম সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মুসলিম লীগের দুই দশক পরে। আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আজও না। কিন্তু তারা সুপার রাজনৈতিক। তাদের একক লক্ষ্য হল, দেশে হিন্দু আধিপত্য ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করে হিন্দু আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা ছিল তাদের একক লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল কংগ্রেসের শাসন তাদের পছন্দ ছিল না। এজন্য তারা গান্ধী ও নেহরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অভিযোগ, গান্ধীকে হত্যা করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে! এজন্য সেসময় দেশে তাদের সব তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, কংগ্রেসের সূচনালগ্ন থেকেই চরমপন্থী গোষ্ঠী বর্ণ হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তারা আরএসএস-এর তথাকথিত আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তারা আরএসএস-এর সঙ্গে একাত্ম ছিলেন। অভিযোগ, এখনো জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংঘ পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রথমে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ ছিল না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সকল আদর্শের উল্লেখ ছিল। পরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ সংযোজন করা হয়। তা সত্ত্বেও, যেহেতু কংগ্রেসে সব সময় হিন্দু চরমপন্থী এলিমেন্টস খুব সক্রিয় ও শক্তিশালী, এজন্য এদেশে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এখন তো ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতার চরম বিরোধী। তা সত্ত্বেও, তাদের নেতারা প্রায়ই বলে, ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বলে ধর্মনিরপেক্ষ! ঠিক। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত। এজন্য পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত! এসব কূপমন্ডক নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই। বস্তুত কোন দেশ সফল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ কিনা, সেই সার্টিফিকেট দেবে সেদেশের সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ। কারণ, তারাই শিকার হয় স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder