উদ্বোধনের আগেই ‘উধাও’ প্যান্ডেল কর্তা! চরম বিপাকে দুই পুজো কমিটি
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ডুয়ার্সঃ
দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই চূড়ান্ত ধাক্কা খেল ওদলাবাড়ির দুই নামী পূজা কমিটি—ওদলাবাড়ি ইউনিয়ন ক্লাব ও বিধানপল্লী সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ে প্যান্ডেলের কাজ শেষ না করেই চম্পট দিয়েছেন ডেকোরেটর কর্তা, তাতে করে ষষ্ঠীর দিনেও প্যান্ডেল পড়ে রয়েছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়। প্যান্ডেল না, যেন কঙ্কাল—ক্লাব কর্তাদের ক্ষোভ
কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, চতুর্থীর মধ্যেই প্যান্ডেলের পুরো কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে দেখা যায়, ষষ্ঠীর সকালেও প্যান্ডেলের একাধিক কাঠামো অসম্পূর্ণ, বিদ্যুৎ সংযোগ অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিধানপল্লী সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সদস্য তন্ময় ঘোষ বলেন, “আমরা পূজোর বাজেটের একটি বড় অংশ প্যান্ডেল নির্মাণে বরাদ্দ করেছিলাম। ঠিকাদারের ওপর ভরসা করেই অন্যান্য কাজ এগিয়েছিল। এখন দেখছি, সে ভরসাই কাল হল!”
মাঝপথে কাজ ছেড়ে পালানো, ডেকোরেটরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ডেকোরেটর সংস্থার তরফে প্রথমে সময়মতো কাজ শেষের আশ্বাস দিলেও, পরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপ করা হয়। অবশেষে ষষ্ঠীর আগের রাতে কোনওরকম নোটিস ছাড়াই কাজ ফেলে উধাও হয়ে যায় ডেকোরেটরের লোকজন।
ওদলাবাড়ি ইউনিয়ন ক্লাবের সম্পাদক সুব্রত দাস জানান,
“এভাবে কাজ ফেলে চলে যাওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনগত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।”
নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন, উদ্বেগে স্থানীয়রা
অর্ধসমাপ্ত কাঠামো এবং অপর্যাপ্ত আলো-ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীরাও। দুর্গোৎসবের ভিড়ে কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেই জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও কর্মী নিয়ে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
পুজো উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। তবে ক্লাব সদস্যদের মতে, এ ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।







